kalerkantho


যশোরে আয়শার চিত্র প্রদর্শনী

নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ রংতুলির আঁচড়ে

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ রংতুলির আঁচড়ে

যশোরে আয়শা সিদ্দিকার সাত দিনব্যাপী একক চিত্র প্রদর্শনী গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরে আয়শা সিদ্দিকার সাত দিনব্যাপী একক চিত্র প্রদর্শনী গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। ২৬টি ছবি নিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই প্রদর্শনী দেখতে অনেকেই ছুটে আসছে।

আয়শা সিদ্দিকা নির্যাতিতা নারী। পাচারকারী খপ্পরে পড়ে তিনি ভারতে বন্দি জীবন যাপন এমনকি জেলও খাটেন। সেখানে তাঁর বন্দি জীবন, তাঁর অতীত আর স্বপ্ন নিয়ে একসময় ছবি আঁকা শুরু করেন। সেই ছবি নিয়েই এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর শুরুর দিনই এটি ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের আয়শা যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তখন তাঁর বাবা নিয়ামত আলী তাঁকে সবজি বিক্রেতা সরাফত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেন। শুরু হয় আয়শার অন্য জীবন। ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশে যাওয়ার সময় তিনি নারী পাচারকারীদের কবলে পড়েন। পাচারকারীরা তাঁকে অচেতন করে টাকা-পয়সা, পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে কেরালায় নিয়ে যায়।

পুলিশ আয়শাকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে পাঠায়। আয়শা সেখানেই ছবি আঁকা শুরু করেন। আঙুলের মাথায় রং লাগিয়ে নারী নির্যাতনের কয়েকটি ছবি আঁকলে নিরাপদ হেফাজত কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রশংসা করে। এরপর তাদের সহযোগিতায় ২২টি চিত্রকর্মের একক প্রদর্শনী কেরালায় অনুষ্ঠিত হয়। এই ছবিগুলো বিক্রি করে টাকা তুলে দেওয়া হয় আয়শার হাতে। কেরালার স্থানীয় প্রশাসনকে খুলে বললে তারা আয়শাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আয়শা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। বাড়ি ফিরে আয়শা ছবি আঁকা অব্যাহত রাখেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি ‘অতীত’, ‘স্বপ্ন’, ‘নৃত্য’, ‘রাজকন্যা’, ‘বৃষ্টি’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নামের ছবিতে নারী নির্যাতনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। আয়শা বলেন, ‘কেরালায় আমি অনেক সম্মান পেয়েছি। সেখানকার সরকার আমাকে অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। আমি আমার দেশে চিত্রকর্মের মাধ্যমে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমি নারী মুক্তি আর তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অস্ত্রের বদলে রংতুলি হাতে নিয়েছি। ’


মন্তব্য