kalerkantho


পুলিশ কর্মকর্তার এ কেমন আচরণ!

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পেকুয়ায় একটি পিকআপ ভ্যানের চালককে জনসমক্ষে মারধর ও কান ধরে উঠবোস করিয়েছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)।

পুলিশ কর্মকর্তার নাম তৌহিদুল ইসলাম।

তাঁর অভিযোগ, সড়কে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে ধাক্কা মেরেছেন ওই ভ্যানচালক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনার চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। ওই কর্মকর্তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পিকআপ ভ্যানচালকের নাম মো. মীর কাশেম (৩৫)। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার পৌর এলাকার নাজিরারটেকে। বাবার নাম নুরুল আলম।

মীর কাশেম বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে আমি পিকআপ ভ্যান চালিয়ে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে যাচ্ছিলাম।

সকাল ১১টার দিকে পেকুয়া চৌমুহনী মোড় পার হই। সামনেই ছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। আমি তাঁর পাশ ঘেঁষে যাওয়ার চেষ্টা করি, ধাক্কা দিইনি। ’ তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে তিনি যে আচরণ করেছেন তা বাড়াবাড়ি। ’

পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, যানজট সামলানোর জন্য পেকুয়া সদরের চৌমুহনীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ওই সময় পিকআপ ভ্যানটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়ার কথা ঠিক নয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের একজন নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘ভ্যানটি এসআই তৌহিদের একেবারে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাঁকে ধাক্কা দেয়নি। এসআই চালককে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন, এরপর কান ধরে উঠবোস করান। এ দৃশ্য শত শত লোক দেখেছে। ’

পেকুয়ার কয়েকজন সংবাদকর্মী বলেন, পেকুয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর তৌহিদ সব সময় বেপরোয়া আচরণ করেন। আজকের ঘটনাটি একেবারেই ঠুনকো এক ঘটনা। কিন্তু তিনি প্রকাশ্যে এ ধরনের আচরণ করে পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁরা বলেন, চালক যদি অপরাধ করেই থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নেওয়া যেত। কিন্তু এসআই জনসমক্ষে যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন তা মেনে নেওয়া যায় না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে আপনাকে যে ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, তাতে আহত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি—এ কথার কোনো যুক্তিযুক্ত জবাব দেননি তিনি।

পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে দেখব, সত্যিই কী ঘটেছে।

সূত্র জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই কর্মকর্তাকে পেকুয়া থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।


মন্তব্য