kalerkantho


মাংস বিক্রেতাদের ধর্মঘটে প্রভাব হোটেল ও অনুষ্ঠানে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মাংস ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটে রাজধানীতে গরু ও খাসির মাংস বিক্রি কার্যত বন্ধ। কিছু সুপারশপে বেশি দামে মাংস পাওয়া গেলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। মাংস বিক্রি নিয়ে এ অচলাবস্থার বড় প্রভাব পড়েছে খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। আপাতত মুরগির মাংসে অনেকে অতিথি আপ্যায়ন সারছেন। তবে চাহিদা বাড়লেও মুরগির বাজারে তেমন হেরফের হয়নি দামে।

গাবতলীর গরুর হাটের ইজারাদারের অতিরিক্ত খাজনা আদায়, চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ কয়েকটি দাবিতে গত সোমবার থেকে রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা ছয় দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। চলবে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত। এর মধ্যে দাবি না মানলে সারা দেশে ধর্মঘট আহ্বানের হুমকিও দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানায়, ধর্মঘটের প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার এবং পাড়া-মহল্লার প্রায় পাঁচ হাজার মাংসের দোকানে গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সুপারশপ স্বপ্ন ও মিনাবাজারে সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। স্বপ্ন কিছুটা দাম বাড়িয়ে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে গরুর মাংস।

মিনাবাজার বিক্রি করছে ৫৯৫ টাকা কেজিতে অর্গানিক গরুর মাংস। আরো কয়েকটি সুপারশপে অল্পবিস্তর মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে।

নিলক্ষেতের রয়েল তেহারি ঘরের কামরুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের খিচুড়ি আর তেহারির আইটেম তৈরিই হয় মূলত গরুর মাংস দিয়ে। অধিকাংশ কাস্টমারই আসেন তেহারি খেতে। মাংসের অভাবে চার দিন ধরে আমরা তেহারি তৈরিই করতে পারছি না। ’ এমন অবস্থা প্রায় প্রতিটি তেহারি দোকানের। একইভাবে মাংসের কারণে বিরিয়ানি তৈরি বন্ধের কথা জানান ফখরুদ্দিন বিরিয়ানি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান। অন্যদিকে রাজধানীর খাবার হোটেলগুলোতে ভিন্ন আইটেমে ক্রেতা সামাল দিলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঘিরে বাধছে বিপত্তি। বিয়ে, জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠানে মুরগির মাংস দিয়েই অতিথি আপ্যায়ন করতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, ‘মাংস বিক্রি না করতে সমিতির কড়া নির্দেশ রয়েছে। শনিবারের পরও বিক্রি শুরু হবে কি না, বুঝতে পারছি না। ’

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম জানান, রাজধানীতে প্রায় পাঁচ হাজার দোকানে ধর্মঘট চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে সারা দেশে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে। চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় মাংস ব্যবসায়ীদের অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে এ ব্যাপারে।

এদিকে গাবতলীর গবাদি পশু ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজি মজিবুর জানান, গাবতলীর পশুর হাটে কোনো চাঁদাবাজি হয় না। ইজারাদাররাও কোনো বাড়তি খাজনা আদায় করেন না। উল্টো বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বিভিন্ন সময় পশু ব্যবসায়ীদের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের নামে কমিশন বাণিজ্য করছেন।

ওদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় আশঙ্কা থাকলেও মুরগির দাম রয়েছে স্থিতিশীল। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। এর পাশাপাশি স্বাভাবিক রয়েছে সবজির বাজার। প্রতি কেজি শিম ২৫-৩০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, বেগুন ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩০ টাকা, টমেটো ২৫-৩০ (কোনো কোনো স্থানে ৪০ টাকা), দেশি পেঁয়াজ ২৫ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২০ এবং কাঁচামরিচ ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


মন্তব্য