kalerkantho


পাঁচ শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নির্যাতন

পবিপ্রবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পবিপ্রবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাউফল-দুমকী সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানায়।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার পবিপ্রবির মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আলী আদনান, শাওন কুমার বাইন, শিবাজী মণ্ডল, ইরতেজা ও মোস্তাক হাসান নলুয়া গ্রামে পায়রা নদীর তীরে বেড়াতে যায়। সেখানে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিক খান, ছাত্রলীগ নেতা ফাইজুর রাব্বী, সজীব মৃধা, সোহেল, জহিরসহ ১০-১২ জন ওই শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে। তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন কেড়ে রেখে নির্যাতন করে। পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল উত্তাল হয়ে ওঠে প্রবিপ্রবির ক্যাম্পাস। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুমকি-বাউফল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ছাড়াও সব কটি গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাসের

ভেতর পালন করা হয় মানববন্ধন কর্মসূচি। পরিস্থিতি শান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও দুমকি পুলিশের সমন্বয়ে একটি টিম চেষ্টা চালায়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে তাঁর কার্যালয়ে পুলিশ, ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত শিক্ষার্থী এবং প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমার কার্যালয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে। ’

প্রক্টর প্রফেসর ড. পূর্ণেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেহাদ পারভেজ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. নাঈম হোসেন বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আলোচনা সভায় দুই দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনে যাবে শিক্ষার্থীরা। ’

এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিক খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


মন্তব্য