kalerkantho


তিস্তা অভিমুখে রোডমার্চ শেষে বক্তারা

খরায় নদী মরছে বর্ষায় মানুষ

রংপুর অফিস, লালমনিরহাট ও নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে দেওয়াসহ ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বগুড়া থেকে শুরু হওয়া রোডমার্চ শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকার সাধুরবাজারে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে দুই দিনের এ কর্মসূচি পালন  করে। এতে দলটির নেতাকর্মীরা ছাড়াও কৃষকরা অংশগ্রহণ করে।

রোডমার্চ শেষে বক্তারা বলেছেন, ‘ভারত শুষ্ক মৌসুমে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে এ দেশের নদীগুলোকে মারছে। আবার বর্ষাকালে তাদেরই অতিরিক্ত পানির চাপে মানুষ মরছে। অথচ দেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কেউ কোনো কিছু করছে না। কারণ প্রধান দুই দলই গদি রক্ষার জন্য ব্যস্ত। তারা নদী রক্ষার জন্য কেউ রাজপথে নামে না। ’

উদাহরণ টেনে কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ভারত সফর করেছিলেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তিস্তার পানির ব্যাপারে ভারত কী বলেছে?’ এর উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘স্যরি বিষয়টি মনে ছিল না।

পরে এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ’

জানা যায়, গত বুধবার বগুড়া শহরের সাতমাথায় রোডমার্চের উদ্বোধন করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। পরে সেটি বগুড়ার মহাস্থানগড়, মোকামতলা ও ফাঁসিতলা হয়ে এসে পৌঁছায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। সেখান থেকে ওই দিন সন্ধ্যায় তারা সমাবেশ করে রংপুর মডার্ন মোড়ে। মাঝপথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এবং রংপুরের ধাপেরহাট, পীরগঞ্জ, শঠিবাড়ী, মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা-সমাবেশ করে। এদিকে গতকাল সকাল ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের সমাবেশ শেষে ফের তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে শুরু হয় রোডমার্চ। সন্ধ্যায় ব্যারাজ এলাকায় পৌঁছার আগে রংপুরের পাগলাপীর, তারাগঞ্জ এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলাসহ একই দাবিতে কয়েকটি স্থানে জনসংযোগ, পথসভা-সমাবেশ করে।


মন্তব্য