kalerkantho


নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা

অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে জীবনভর সংগ্রাম করেছেন সুরঞ্জিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে জীবনভর সংগ্রাম করেছেন সুরঞ্জিত

গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় কণ্ঠস্বর ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তিনি আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন।

তাঁর জীবনকর্ম অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারলে অসাম্প্রদায়িক ও শান্তির জনপদ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ। সদ্যঃপ্রয়াত প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ স্মরণে আয়োজিত সভায় দেশের বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেছেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল বৃহস্পতিবার সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মরণ নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আলোচনায় অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী ড. জয়া সেনগুপ্ত, ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হোসেন চৌধুরী, মুহিবুর রহমান এমপি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, আমাদের দুজনের পরিচয় ঘটে ১৯৭০ সালে। তখন দুজনই এমপি। তিনি ওই সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর নানা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে দুজনে পাশাপাশি চলার ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন দেশে সংবিধান প্রণয়নে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন সেনগুপ্ত। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অগ্রভাগে থেকেছেন। সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনীতেও তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল উঁচুতে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে কথা বলেছেন, কোনো মুসলমান নেতাও এভাবে কথা বলার সাহস রাখেননি।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময়ে দেখেছি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সব সময় অগ্রভাগে থাকতেন। তিনি অভিনেতা থেকে নেতা হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন দুইবার নাটকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। রাজনীতি করতে এসে তিনি শীর্ষ পর্যায়ে

ভূমিকা পালন করেছেন। সংবিধানের ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। সংবিধান বা সংসদ নিয়ে কেউ অবজ্ঞা করলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। ’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দীর্ঘদিনের বন্ধু রামেন্দু মজুমদার তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। এমনকি সুরঞ্জিতের বিয়ে নিয়ে মজার মজার ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘সুরঞ্জিত গরমকালে গায়ে লেপ মুড়িয়ে ফ্যান চালিয়ে ঘুমাত। এ জন্য ওকে বলতাম, তোমার বিয়ে হবে না। ’

ড. জয়া সেনগুপ্ত স্মরণসভা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে কয়েক দিন ধরে নানা স্তরের মানুষ যেভাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করছে সে জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


মন্তব্য