kalerkantho


থানায় নানাভাবে প্রত্যাখ্যান ভোগান্তি

ভুক্তভোগীদের ভরসা ইউএনও!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভুক্তভোগীদের

ভরসা ইউএনও!

বিধবা এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল বখাটেরা। উপায় না দেখে ওই গৃহবধূ গেলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে।

একাধিকবার সালিসও বসল। কিন্তু সমাধান হয়নি। উল্টো আরো উৎপাত বেড়ে গেল। এবার ওই গৃহবধূ গেলেন থানায়। বখাটেদের সঙ্গে যেহেতু জনপ্রতিনিধিরা জড়িত, তাই অভিযোগ নিল না পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে গৃহবধূ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এ সময় আইনি সহযোগিতার হাত বাড়ালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি থানার ওসিকে অনুরোধ করলেন। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাকপুর ইউনিয়নের মহিষাপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, থানা থেকে প্রত্যাখ্যান হয়েছে এমন ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা নিতে পারবেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও সুপারিশ করবেন। ইউএনওর সুপারিশ সত্ত্বেও থানা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রস্তাব আকারে উঠবে। তখনই জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ব্যাপারে মহিলা আইনজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগের সমন্বয়ক মাসুক কামাল বলেন, এ পদ্ধতির নিয়ম  থাকলেও তার বাস্তবায়ন তেমন একটা নেই বললেই চলে।

বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ওই গৃহবধূ জানান, তিনি স্বামী হারা একজন বিধবা নারী। এক শিশুকন্যাকে নিয়ে কোনোভাবে মহিষাপোতা গ্রামের মায়ের জমিতে বসবাস করে আসছেন। এরপর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী ও বখাটে জাহিদ হোসেন সরদার, কুদ্দুস ও সাহাদাত উত্ত্যক্ত করে আসছে। এমনকি ওই জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হুমকি দিয়ে আসছে। কয়েক দিন আগে এর প্রতিবাদ করায় জাহিদ, কুদ্দুস ও সাহাদাত ওই গৃহবধূকে মারধর করতে উদ্ধ্যত হয়।  

ওই গৃহবধূ আরো বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বানারীপাড়া থানায় একাধিকবার অভিযোগ করতে গেলে প্রভাবশালীদের কারণে অভিযোগ আমলে নেয়নি। এ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে  ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মা ও ভাইদের সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা থাকলে তা পারিবারিকভাবে সম্পন্ন করা যেত। কিন্তু একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আমার ওই জমিটুকু গ্রাস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তাঁরই সাঙ্গোপাঙ্গরা প্রতিদিন আমাকে উত্ত্যক্ত করে চলেছে। ’

তবে এ ব্যাপারে জাহিদ হোসেন সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পেছনেই ওই গৃহবধূর মায়ের কিছু সম্পত্তি রয়েছে। সে মা ও ভাইদের কোনো কিছু না জানিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। আমরা মাঝখানে পরে তা মিট করে দেওয়ার পর গৃহবধূ মা ও ভাইদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর থানা কর্তৃপক্ষ সালিস বৈঠকের ব্যবস্থা করে। এতে তার মা আমাকে ও ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টুকে সালিসদার হিসেবে মনোনিত করেন। ওই সময়ে চেয়ারম্যান এলাকায় না থাকায় আমাকে সালিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেন। আইনগতভাবেই সালিসে পাখির মায়ের পক্ষাবলম্বন করায়  থানায়  ওই গৃহবধূ আমাদের ওপরে ক্ষুব্ধ হয়ে এ অভিযোগ করে। ’

বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই গৃহবধূর সঙ্গে জমি নিয়ে তার মা ও  ভাইদের সঙ্গে ঝামেলা চলছে। এ নিয়ে সে তার মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিবার অভিযোগ করেছে। কিন্তু তাকে স্থানীয় লোকজন উত্ত্যক্ত করছে বা করেছে—এমন অভিযোগ কখনোই করেনি। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে একটি অভিযোগের ফরোয়ার্ডিং কপি পেয়েছি। তাতে তিনজনের নাম দেখেছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের  বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ইউএনও মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওসি অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে গৃহবধূ আমাকে জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিকে অনুরোধ করেছি। এরপরও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। ’

 


মন্তব্য