kalerkantho


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দুর্নীতির শাস্তি ভোগ করছেন তবু প্রস্তাব পদোন্নতির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুর্নীতি ও অনিয়ম করার প্রমাণ মেলায় মাত্র দেড় বছর আগে বিভাগীয় শাস্তিস্বরূপ তাঁর বেতন স্কেল দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

এখনো তিনি কম বেতনে চাকরি করে সেই শাস্তি ভোগ করছেন। আর সেই কর্মকর্তাকেই এবার পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর করার প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এমন প্রস্তাব করা হয়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই, যা নিয়ে পুরো অধিদপ্তরে শুরু হয়েছে চাপা অসন্তোষ। যাকে নিয়ে এত বিতর্ক তিনি হলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো প্রাক্তন সহকারী প্রধান ও বর্তমানে ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে পদায়নকৃত মো. নাসির উদ্দিন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো প্রধান এবং লাইন ডিরেক্টর হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন শরিফা বেগম। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর তিনি অবসর উত্তর ছুটিতে যাবেন। ফলে ওই পদে একই দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী প্রধান ও বর্তমানে ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে পদায়নকৃত মো. নাসির উদ্দিনকে ভাবা হচ্ছে। তাঁকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান ও লাইন ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি দিতে গত ২৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সমীর কান্তি সরকার। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ।

সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন প্রস্তাবের জন্য পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সমীর কান্তি সরকারকে দায়ী করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন লাইন ডিরেক্টর কালের কণ্ঠকে বলেন, তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারী থেকে যদি নাসির উদ্দিন আমাদের সমপদে চলে আসেন তবে আমাদের সম্মান বলে কিছু থাকবে না। আর নাসির উদ্দিন দুর্নীতি-অনিয়মের দায়ে শাস্তি পেয়েছেন। সবাই তাঁর অপকর্মের কথা জানেন। তাঁকে আবার এই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ঢোকানো হলে এর দায় সবার ওপর পড়বে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সমীর কান্তি সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, চাকরিবিধি অনুসারেই নাসির উদ্দিনের পদোন্নতির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা নেই। সিদ্ধান্ত তো দেবে মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে মো. নাসির উদ্দিন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সুযোগে তিনি এ দপ্তরের প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তী সময় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর উন্নয়ন কর্মসূচির (এইচপিএনএসডিপি) বৈদশিক সাহায্যপুষ্ট নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ফাপাড) নিরীক্ষিত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের হিসাবে এই অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে, যা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হয়। এতেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ফলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মো. নাসির উদ্দিনকে শাস্তিস্বরূপ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর ওই সময়ের বেতন স্কেল থেকে দুই ধাপ নামিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে তাঁকে ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন নানা কৌশলে শাস্তিমূলক এ আদেশ অমান্য করে আগের বেতন স্কেলেই বেতন তুলছিলেন। মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকা সিভিল সার্জন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোসহ তুলে নেওয়া টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তা না করা পর্যন্ত তাঁর বেতন বন্ধ রাখা হয়। এখনো বিষয়টির সুরাহা হয়নি।  


মন্তব্য