kalerkantho


গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ

সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ, জানতে চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ, জানতে চান হাইকোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। অন্তর্বর্তীকালীন এ নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চাওয়া হয়েছে। ভূমিসচিব, সমাজ কল্যাণসচিব, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গাইবান্ধার পুলিশ সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১৯৬২ সালে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের এক হাজার ৮৪০.৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তোলে। সম্প্রতি ওই জমির দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। তারা সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় চিনিকল কর্তৃৎপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমিতে কয়েক শ ঘর তুলে বসবাস শুরু করে। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে গত বছর ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্মী, সাঁওতাল ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় চারজন নিহত ও বহু লোক আহত হয়।

সাঁওতালদের উচ্ছেদ-সংঘর্ষের পর আলামত নষ্ট বা অদৃশ্য করা হয়েছে অভিযোগ করে গত বছর ৭ ডিসেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত। সেই নোটিশের জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ আবেদনে গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষের ঘটনার পর ‘আলামত নষ্ট করায়’ রংপুর সুগার মিলের এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়।

‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে’ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না—তাও জানতে চান আদালত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদালতে যে প্রতিবেদন দেন, বুধবার তার ওপর শুনানির সময় আদালত সাঁওতালদের পুনর্বাসনের বিষয়ে নতুন এই নির্দেশনা দেন। আদালতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত নিজেই শুনানি করেন। চিনিকল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এ এম মাসুম ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।


মন্তব্য