kalerkantho


সালিহা বেন আলী বললেন

এটা তোমার সঙ্গেও হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এটা তোমার সঙ্গেও হতে পারে

জঙ্গিবাদ ইসলামের পথ নয়, ভুল পথ। এই পথে গিয়ে অনেক তরুণ নিজের ও পরিবারের বিপদ ডেকে আনছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের সবাই অপরাধীর চোখে দেখে। ক্ষতিগ্রস্তদের এ বিষয়ে কথা বলা দরকার। কেন এমনটি হলো, তা জানিয়ে অন্যদের সচেতন করা উচিত। কারণ এ ধরনের জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের শিকার যে কেউ হতে পারে। সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিয়ে নিহত হওয়া তরুণের সমাজকর্মী মা সালিহা বেন আলী গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের কাছে এমনই মন্তব্য করেন।

বেলজিয়ামের নারী সালিহার ১৮ বছরের ছেলে সাবরি রেফলা তিন বছর আগে আইএসে যোগ দিয়ে নিহত হন। এর আগে সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করলেও সন্তান হারানোর পর জঙ্গিবাদ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে নেমে পড়েছেন সালিহা। বাংলাদেশ সফরকালে গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডির ইএমকে সেন্টারে সাংবাদিকদের সালিহা বেন আলী বলেন, “আমি একজন ক্ষতিগ্রস্ত মা। এটা নিয়ে আমি সব সময় কথা বলি।

সবাইকে সচেতন করতে কাজ করছি। আমার ছেলের কথা বলি। কারণ আমি দোষী নই। সবাইকে মনে রাখতে হবে—‘এটা তোমার সঙ্গেও হতে পারে। ’ তাই এটা আমার স্লোগান। ”

তিন বছর আগে বেলজিয়ামে সোসাইটি অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম (সেভ) গড়ে তোলা এই নারী গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে হাজির হন। সেখানে তিনি ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ক্যাম্পেইন টু কাউন্টার ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম—শেয়ারিং লার্নিং ফ্রম সোসাইটি অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম (সেভ) বেলজিয়াম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ছেলের জঙ্গি হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সালিহা। গতকাল তিনি সাক্ষাৎকারে ছেলের জঙ্গিদলে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। সালিহা জানান, তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিলবো এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি সমাজকর্মে নিয়োজিত আছেন। তিনি শরণার্থী, শিশু, ক্যাথলিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবামূলক কাজ করতেন। তাঁর তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত স্বামী সুন্নি হলেও তিনি শিয়া সম্প্রদায়ের। তাঁর ছেলে সাবরি হতাশায় ভুগছিলেন। একসময় তিনি একটি উগ্রপন্থী দলের কবলে পড়ে সিরিয়ায় চলে যান। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট সকালে মা সালিহা বিষয়টি টের পান। এর চার দিন পর ছেলের সিরিয়ায় যাওয়ার খবর পান মা। তিন মাস পর মৃত্যু সংবাদ পান। জানতে চাইলে সালিহা বলেন, মূলত হতাশাগ্রস্ত তরুণদের মনে করানো হয়—উন্নত ও ফিতনা থেকে মুক্ত জীবনের জন্য আইএসে যাওয়া প্রয়োজন। ছেলেকে হারানোর পর সালিহার মনে হয়, এ ব্যাপারে বেলজিয়ামের অভিভাবক ও সন্তানদের সচেতন করা জরুরি। সবাইকে বলা দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, মসজিদসহ সব জায়গায় গিয়ে তিনি এ ব্যাপারে বলেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানতে চাইলে সালিহা বলেন, ‘আমি মনে করি, এখানে সবাইকে কথা বলা দরকার। পুলিশ তাদের কাজ করছে। তবে ভুক্তভোগী যাঁরা, যাঁদের সন্তান ভুল পথে চলে যাচ্ছে তাঁদের প্রতিকার পাওয়ার অধিকার আছে। সেখানে একটি ফোন নম্বরের হেল্প লাইন থাকতে পারে। অনেকে পুলিশের কাছে জানাতে চাওয়াকে নিরাপদ নাও মনে করতে পারেন। ’ তিনি আরো বলেন, “আমি যেভাবে কথা বলছি। সচেতনতার জন্য দেশে-বিদেশে কাজ করছি। সেভাবে সবাইকে বলা দরকার। কারণ এটা আজ আমার সঙ্গে হয়েছে। কাল তোমার সঙ্গে হতে পারে। তাই আমার স্লোগান—‘এটা তোমার সঙ্গেও হতে পারে। ’” সাংবাদিকদের উদ্দেশে সালিহা বেন আলী বলেন, ‘আপনারা গণমাধ্যমে তথ্য দিয়ে সবাইকে সচেতন করেন। ’


মন্তব্য