kalerkantho


জমির বর্ধিত হারে কর আদায়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জমির বর্ধিত হারে কর আদায়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

সারা দেশে বর্ধিত হারে জমির কর আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক বছরের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, বরিশালের দেওয়ান আবদুর রশিদের করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। আদেশের পর তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৩০ জুন ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর বাড়ানো হয়। এই বর্ধিত কর নিতে পারবে না সরকার। তবে এর আগে যে হারে কর নেওয়া হতো সেটা নেওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, জমির খাজনা আদায়ের জন্য ১৯৫০ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন করে ততকালীন সরকার। দেশ স্বাধীনের পর খাজনার পরিবর্তে কর আদায়ের জন্য ১৯৭৬ সালে ভূমি কর অধ্যাদেশ নামে একটি আইন করে সরকার। তখন থেকে খাজনার পরিবর্তে ভূমি কর আদায় করা হচ্ছে।

যদিও এটা গ্রামাঞ্চলে এখনো খাজনা হিসেবেই পরিচিত। এ অবস্থায় সরকার ১৯৯৩ সালে ভূমি কর অধ্যাদেশের ৩(১) ধারা সংশোধন করে সেখানে ৩(১)(এ) ধারা যুক্ত করে। ৩(১)(এ) ধারায় বলা হয়, সরকার অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর পুনর্বিবেচনা, বর্ধিত কিংবা হ্রাস করতে পারবে। এ ক্ষমতাবলে ভূমি মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৩০ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপনে জমির উন্নয়ন কর কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাত গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

কর বৃদ্ধির এ প্রবণতায় বরিশালের দেওয়ান আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে কর বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সরকারকে দেওয়া ক্ষমতাসংবলিত আইন বাতিল প্রশ্নে গত বছর ২২ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাদেশের ৩(১)(এ) ধারা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আইনসচিব, ভূমিসচিব, অর্থসচিব ও বরিশালের জেলা প্রশাসকসহ পাঁচজনকে এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এ রুল বিচারাধীন। এ অবস্থায় কর আদায়ের জন্য সরকার হয়রানি করছে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করেন রিট আবেদনকারী। তাঁর অভিযোগ, কর আদায়ের জন্য মামলা, গ্রেপ্তার করা বা সম্পদ ক্রোকের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত বর্ধিত হারে কর আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাদেশ-১৯৭৬ একটি অর্থনৈতিক বিষয়ক আইন। এটা অর্থ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হতে হবে। জাতীয় সংসদে পাস করা ছাড়া কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে কর আদায় করা যাবে না। এটা সংবিধানের ৮০, ৮১, ৮২ ও ৮৩ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। অর্থ বিলসংক্রান্ত কোনো আইন পাস করার প্রয়োজন হলে তা বিল আকারে আগে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হয়। জাতীয় সংসদে উত্থাপনের আগে তাতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ৮৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদের কোন আইনের দ্বারা বা কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন করারোপ বা সংগ্রহ করা যাইবে না। ’ সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে করের বিষয়ে নির্দেশাবলি থাকার পরও সরকার জাতীয় সংসদে কোনো আইন পাস না করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যা অসাংবিধানিক। এ কারণেই এটা বাতিলযোগ্য।


মন্তব্য