kalerkantho


‘ওয়ালটন ভালোবাসার গল্প’

বিজয়ী ১০ লেখকের হাতে পুরস্কার

সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিজয়ী ১০ লেখকের হাতে পুরস্কার

গতকাল ‘ভালোবাসার গল্প’ প্রতিযোগিতায় প্রথম বিজয়ীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কথা ঘোষ—বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। লেখালেখি তাঁর শখ। স্বপ্ন একদিন ঔপন্যাসিক হবেন। কিন্তু মা-বাবা পছন্দ করেন না এ কাজ। তাই গোপনে চলে তাঁর লেখালেখি। গোপনেই কালের কণ্ঠ’র ‘ওয়ালটন ভালোবাসার গল্প’ প্রতিযোগিতায় একটি গল্প পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ‘স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষা’ গল্পটি স্থান পেয়েছে সেরা দশে। কিন্তু পুরস্কার নিতে অনুষ্ঠানে হাজির হতে পারেননি তিনি। টেলিফোনে বললেন, ‘এমনিতেই চুপিচুপি গল্প-কবিতা লিখছি। মা-বাবা টের পেলে খবর আছে। ’

শুধু কথা ঘোষই নন, তাঁর মতো লেখালেখির প্রতি অনুরক্ত আরো ৯ জন, যাঁরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সেই ১০ জন লেখককে এই প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তাঁদের লেখা ১০টি ‘ভালোবাসার গল্প’ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে কালের কণ্ঠে একটি বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়।

গতকাল বিকেলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী ১০ লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, নির্বাহী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, নির্বাহী পরিচালক জেড এম আহমেদ প্রিন্স, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির, জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মো. রবিউল আলম ভূঁইয়া এবং রেডিও ক্যাপিটাল এফএম ৯৪.৮ এর মেহেদী মালেক সজীব। অনুষ্ঠানটি যৌথ আয়োজক রেডিও ক্যাপিটাল এফএম ৯৪.৮ সরাসরি সম্প্রচার করে।

নবীন লেখকদের উদ্দেশে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো সাহিত্যই ভালোবাসা ছাড়া হয়নি। যাদের লেখালেখি করার ইচ্ছা আছে তারা যতটা লিখবে, পড়বে তার চেয়ে দশগুণ বেশি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো সব কাজে ভালোবাসা থাকতে হবে। ভালোবাসা না থাকলে কোনো কাজই সহজ হয় না। দেশকে ভালোবেসে ১৯৭১-এ আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছিলেন। ভালোবাসা দিয়েই আমরা দেশকে আলোকিত করব। ’

মোস্তফা কামাল বলেন, “আজকাল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লেখালেখির প্রতি অনীহা বাড়ছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই লেখালেখিটাকে আবার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনতেই আমরা ‘ওয়ালটন ভালোবাসার গল্প’ লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। আমরা চেয়েছি অন্তত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হলেও সাহিত্যচর্চা আর লেখালেখিটা আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠুক। ” বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা লেখালেখিটা চালিয়ে যাও। আর এই প্রচেষ্টাটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের সাহিত্যভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ হবে। ’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভালোবাসা অফুরন্ত, এর কোনো সীমা নেই। দেশকে ভালোবাসতে হবে, আমাদের মা-বাবাকে ভালোবাসতে হবে। সবার ভালোবাসা দিয়ে সমাজ ও দেশের সব অপসংস্কৃতি দূর করতে হবে। ’

এ ছাড়া আলাদা আলাদা বক্তব্যে বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান জেড এম আহমেদ প্রিন্স, মেহেদী মালেক সজীব ও রবিউল আলম।

বিজয়ী লেখকদের মধ্যে ‘ছয় তারে ভালোবাসা’ শিরোনামের গল্পের জন্য প্রথম হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ উল হক আবীর। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন একটি ল্যাপটপ। আবীর বলেন, ‘লেখালেখি করছি প্রায় ছয়-সাত বছর। কিন্তু এভাবে হঠাৎ লেখা জমা দিয়ে পুরস্কার পেয়ে যাব ভাবিনি, এটা আমার জীবনের বড় একটি ঘটনা। তবে আমরা আশা করব ভবিষ্যতে যাতে কালের কণ্ঠ আমাদের লেখা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়, সেটি হবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। ’

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়া ‘দ্বিধা’ গল্পের লেখক ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রিফাত রহমান পাপড়ি পেয়েছেন একটি ওয়ালটন ফ্রিজ। তিনি বলেন, ‘পুরস্কার পেয়ে ভীষণ আনন্দ লেগেছে। এ রকমটা যে হবে তা আমার স্বপ্নেও ছিল না। আমি একজন বড় লেখক হতে চাই। আপনারা দোয়া করবেন। ’

তৃতীয় হয়েছে ‘শেষ চিঠি’ গল্পটি। এর লেখক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান শাওন পেয়েছেন একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।

চতুর্থ পুরস্কার পেয়েছেন সাতজন। ‘জুলি এখন মেঘেদের দেশে’ গল্পের জন্য আইইউবিএটি রুফায়েল মিয়া, ‘স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষা’ গল্পের জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের কথা ঘোষ, ‘ভালোবাসার ইরেজার’ গল্পের জন্য চট্টগ্রামের বিজয় সরণি কলেজের জাকির হোসেন, ‘ভালোবাসার পুনর্বাসন’ গল্পের জন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সুহী আহমেদ সুসান, ‘মন আকাশের প্রজাপতি’ গল্পটির লেখক নরসিংদী সরকারি কলেজের মুহাম্মদ আল আরাফাত, ‘প্রেম ও আমি’ লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাজমুল ইসলাম, ‘ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠার গল্প’ লিখেছেন নর্দান ইউনিভার্সিটির চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিক। পুরস্কার হিসেবে তাঁদের প্রত্যেককেই একটি করে ওয়ালটনের প্রিমো সিরিজের মোবাইল দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য