kalerkantho


গ্যাং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ

উত্তরায় স্কুল ড্রেসে বাইরে ঘুরলেই ধরবে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালে স্কুল ড্রেস পরে ক্যাম্পাসের বাইরে ঘোরাফেরা করলেই ধরে থানায় নিয়ে যাবে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের ‘গ্যাং গ্রুপের’ সাম্প্রতিক অপতৎপরতা রুখতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ।

ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরা গতকাল মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উত্তরা এলাকায় ক্লাস চলাকালে কোনো ছাত্রছাত্রী ড্রেস পরে স্কুলের বাইরে ঘোরাফেরা করলেই তাদের ধরে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে যাবে পুলিশ। এরপর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের ডেকে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে বিধান ত্রিপুরা বলেন, শিক্ষার্থীদের কাজ লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া। কিন্তু অতি সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি যে উত্তরা জোনে ফেসবুকে ‘গ্যাং গ্রুপ’ খুলে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে কিশোর শিক্ষার্থীরা। এমন ফেসবুক দ্বন্দ্বের জের ধরেই খুন হতে হয়েছে কিশোর শিক্ষার্থী আদনানকে।

ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, স্কুল শিক্ষার্থীদের একাধিক গ্যাং গ্রুপের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘নাইন স্টার’ ও ‘ডিসকো বয়েজ’ গ্রুপের অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক তথ্য মিলেছে। নাইন স্টার গ্রুপের সদস্য অনিকের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে ডিসকো বয়েজ উত্তরা গ্রুপ।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রকাশ্যে ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে হুমকি দেওয়া হয় উত্তরা গ্রুপের সদস্য আদনানকে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি উত্তরায় কিশোরদের এলাকাভিত্তিক গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন হয় আদনান কবীর নামে এক কিশোর শিক্ষার্থী। সে উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ হত্যার ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৪ কিশোরকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এজাহারভুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরা এলাকায় শিক্ষার্থীসহ পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ‘গ্যাং কালচার’ নতুন নয়। ২০০১ সাল থেকেই উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠে ৩০টির মতো ছোট-বড় গ্যাং গ্রুপ।   এগুলোর মধ্যে কাকরা গ্রুপ, জি ইউনিট গ্রুপ, ব্ল্যাক রোজ গ্রুপ, রনো গ্রুপ, কে নাইট গ্রুপ, ফিফটিন গ্রুপ, ডিসকো বয়েজ গ্রুপ, নাইনস্টার গ্রুপ, নাইন এম এম বয়েজ গ্রুপ, পোঁটলা বাবু গ্রুপ, সুজন গ্রুপ,  আলতাফ গ্রুপ, ক্যাসল বয়েজ গ্রুপ ও ভাইপার গ্রুপ বেশি সক্রিয় ছিল। ২০১৫ সালে এই গ্যাংগুলো সংগঠিত হয়ে বৃহৎ আকারে ‘ফিফটিন গ্রুপ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।


মন্তব্য