kalerkantho


শিশু ছাত্রদের দিয়ে বাড়ির মাটি কাটালেন শিক্ষক!

আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বরিশালের গৌরনদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে মাটি কাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রবিবার স্কুলে হাজিরা দেওয়ার পর তাদের শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাটি কাটানো হয়।

এতে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এ ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে শিক্ষক চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

গৌরনদী উপজেলার বার্থি ইউনিয়নের বাঘমারা বড়দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ এই কাণ্ড করেছেন বলে শিক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীরা হলো সাগর সরদার, রানা সরদার, গোলাম রাব্বি ও শাকিল ঢালী। তারা সবাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আবদুল লতিফ।

শিক্ষার্থীদের পরিবার ও বিদ্যালয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সকাল ১০টায় ওই চার ছাত্র স্কুলে গিয়ে হাজিরা দেওয়ার পরই তাদেরকে শিক্ষক আবদুল লতিফ বড়দুলালী গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের দিয়ে মাটি কাটার কাজ করানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ছাত্রদের অভিভাবকরা রবিবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি জলিল ঢালীকে জানান।

তিনি বিষয়টি সভাপতি খায়রুল হাসান খোকনকে জানালে তিনি প্রধান শিক্ষক শওকত হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। জানা গেছে, মাটি কাটার কারণে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে শিক্ষার্থী শাকিল ঢালী। গতকাল সে স্কুলে যেতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসেন বলেন, ‘আমি রবিবার ছুটিতে ছিলাম। তবে আজ (সোমবার) স্কুলে এসে চার ছাত্রকে দিয়ে সহকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ মাটি কাটিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমি বিষয়টি তদন্ত করব। এর সত্যতা মিললে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

অভিভাবকরা জানান, স্কুল ছুটি হওয়ার পরও ছেলেরা বাড়ি না ফেরায় চিন্তা হয়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই স্কুলের শিক্ষক লতিফ তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাদের দিয়ে মাটি কাটাচ্ছেন। অভিভাবকরা শিক্ষক লতিফের বাড়িতে গিয়ে দেখেন, তাঁর নতুন বাড়ির চলমান কাজের কিছু অংশে মাটি ভরাট করানো হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে। বিষয়টি তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান। তাঁরা বলেন, ‘আমরা অভিযোগ দিয়েছি, এখন বিচার করার দায়িত্ব তাদের। ’

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাগর সরদার ও রানা সরদার রবিবার স্কুলে কোচিং ক্লাসে আসেনি। তাই আমি তাদের খোঁজ নিতে অন্য দুই ছাত্র গোলাম রাব্বি ও শাকিল ঢালীকে আমার বাড়ির কাছে পাঠাই। কারণ ওই দুই ছাত্রের বাড়ি সেখানেই। এরপর তারা চারজন স্কুলে আসে। পরে আবার কোথায় চলে যায় তা আমি জানতে পারিনি। ’ তিনি বলেন, ‘আমি ওই ছাত্রদের দিয়ে মাটি কাটাইনি। একটি পক্ষ আমাকে হেয় করতে এমনটি ছড়াচ্ছে। ’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক এস এম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাটি কাটানো হলে অবশ্যই চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন ওই শিক্ষক। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য