kalerkantho


মালয়েশিয়ার ত্রাণ নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মালয়েশিয়ার ত্রাণ নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গতকাল এই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য পাঠানো ত্রাণবাহী মালয়েশীয় জাহাজটি অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতেই ভিড়ছে। ‘নটিক্যাল আলিয়া’ নামের জাহাজটি গতকাল সোমবার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) ভিড়বে। সেখান থেকে পণ্য নামিয়ে ট্রাকে করে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে।

জাহাজটিতে চাল, পানি, বিস্কুট, কম্বল, লুঙ্গি, সারেং বা মেয়েদের কাপড়, হিজাব, কাফনের কাপড়, মোমবাতিসহ বেশ কিছু ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ এক হাজার টন, বাকিগুলো কনটেইনারে থাকা পণ্য। জাহাজটিতে মালয়েশিয়ার স্বেচ্ছাসেবী ও সংবাদকর্মী রয়েছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শেষ দিকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভেড়ানো হচ্ছে। আজ সকাল ১১টায় প্রথমে কনটেইনারগুলো নামানো হবে, আর খোলা পণ্য নামবে পরে। ত্রাণগুলো জাহাজ থেকে নামিয়ে হস্তান্তরে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২৩ শ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ‘নটিক্যাল আলিয়া’ জাহাজটি চলতি মাসের শুরুতে মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা দেয়।

রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়ার কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এ ত্রাণ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে জাহাজটি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের বন্দর সিটওয়েতে নামার অনুমতি চায়। কিন্তু সেখানকার কট্টরপন্থী বৌদ্ধদের বাধার কারণে জাহাজটি ভিড়তে পারেনি। পরে জাহাজটি সে দেশের ইয়াঙ্গুন বন্দরে ভেড়ার অনুমতি চায়। স্থানীয় প্রশাসন ও কট্টরপন্থীদের বাধার কারণে সেখানেও ভিড়তে পারেনি জাহাজটি।

এরই মধ্যে অন্তত সপ্তাহখানেক জাহাজটি সাগরে অপেক্ষায় থাকে। পরে জাহাজটি মিয়ানমারের থিলাওয়া বন্দরে ভিড়ে ৫০০ টন ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করে। জাহাজে থাকা শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ও সাংবাদিক ত্রাণসামগ্রী সরাসরি রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবাদের কারণে সেখানে তাঁদের নামা সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য