kalerkantho


চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ

টেন্ডার চাঁদাবাজির পর ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির পর এবার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় দলের ত্যাগী নেতারা হতাশ। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, কিছু অনুপ্রবেশকারী ও স্বাথান্বেষী লোকের কারণে ছাত্রলীগের সুনামহানি হচ্ছে।

এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। কিন্তু গত শনিবার বিকেলে নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় একটি হোটেলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইয়াছিন আরাফাত নামের এক কর্মী নিহত হয়। এর পর থেকে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই ইয়াছিন খুনের নেপথ্যে ‘ইয়াবা’সংক্রান্ত বিরোধ বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পারিপার্শ্বিক সব কারণ অনুসন্ধানের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছা যাবে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘নিহত ছাত্রলীগকর্মী ইয়াছিন আরাফাত ও গ্রেপ্তারকৃত হারুনের বিরুদ্ধে ইয়াবা তথা মাদকসংক্রান্ত কোনো মামলা নেই। ফলে আমি মন্তব্য করতে চাই না। তবে মামলার তদন্তে যদি এমন কিছু আসে, তাহলে তা ভিন্ন বিষয়।

’ ওসি আরো জানান, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে নিহতের বাবা সোমবার রাতের মধ্যে থানায় এসে মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

নগর পুলিশের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার গন্ধ পাচ্ছে পুলিশ। মাদকসংক্রান্ত বিরোধও খুনের নেপথ্যে কাজ করেছে বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে জেনেছেন। এ জন্য খুনের অন্যান্য কারণের সঙ্গে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

নগর ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী জানায়, ইয়াছিন আরাফাত ছিল নগর ছাত্রলীগের গণশিক্ষাবিষয়ক উপসম্পাদক আবদুল আহাদের অনুসারী। প্রায় তিন মাস আগেই আহাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জের ধরে ইয়াছিন অন্য একটি গ্রুপে যোগ দেয়।

পাশাপাশি রিয়াজুদ্দিন বাজারে ইয়াবাসহ মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। দেশের অন্যতম এই পাইকারি বাজারের কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এর আগে ইয়াবার আড়ত গড়ে তোলার অভিযোগও পুরনো। র‍্যাব-পুলিশ একাধিক দফা রিয়াজুদ্দিন বাজার থেকে ইয়াবার চালান জব্দ করেছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যের আড়ালে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের বিপথগামী একটি অংশও জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আলোচিত হচ্ছে।

হতাহতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : পুলিশ কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত ছিল ছাত্রলীগ নেতা আবদুল আহাদের অনুসারী। পরে ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে আহাদের দল থেকে বাদ পড়ে ইয়াছিন। এরপর ইয়াছিন চলে যায় যুবলীগ ক্যাডার ও সিআরবির ডাবল মার্ডার মামলার আসামি অমিত মুহুরীর দলে। একসময়ের বন্ধু হারুন, ইরফান, বক্করসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চলে যায় ইয়াছিন। তাদের মধ্যে বিরোধও বাড়ে। এরই মধ্যে ইয়াছিন বাবার ডিসি রোডের বাসা ছেড়ে চৈতন্য গলির একটি মেসে ওঠে। সেখানে এসেই ইয়াছিন ইয়াবা ও চোরাই মোটরসাইকেলচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে।

পুলিশ জেনেছে, আহাদের গ্রুপ থেকে বাদ পড়ে ইয়াছিন  ছাত্রলীগ নেতা ফারুকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। আবার ইয়াছিনের কাছ থেকে তার ব্যবহূত একটি এফজেড মডেলের মোটরসাইকেল সম্প্রতি অমিত মুহুরী কেড়ে নেয়। এ নিয়ে আবার ইয়াছিনের সঙ্গে অমিতের দূরত্ব তৈরি হয়।

এসব কারণ সামনে রেখেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রিয়াজুদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ, ইয়াবা সংশ্লিষ্টতা ও মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক বিরোধ সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

নগর ছাত্রলীগের একজন নেতা পরিচয় প্রকাশ হবে না শর্তে জানান, নগর ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী হয়ে ছাত্রলীগ নগরে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আবার নগর থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতি।

জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু কালের কণ্ঠকে বলেন, ইয়াছিন ছাত্রলীগকর্মী ছিল। দায়িত্বশীল নেতা ছিল না। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা তথা মাদকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে পুলিশ তা নিশ্চয়ই তদন্ত করবে। তবে কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার ছাত্রলীগ কখনো নেবে না।


মন্তব্য