kalerkantho


সুরে ছন্দে বাসন্তী রং পোশাকে বসন্তবরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সুরে ছন্দে বাসন্তী রং পোশাকে বসন্তবরণ

বসন্তে প্রকৃতিতে রঙের বাহার। রকমারি ফুলের সেই রং ধারণ করে শিশুটি মেতেছিল বসন্ত উৎসবে। ছবিটি গতকাল রাজধানী থেকে তোলা। ছবি : শুভ্র কান্তি দাস

কোথাও কোথাও কোকিলের কুহু ডাক, কোথাও বা গাছের শাখায় সবুজ কুঁড়ি, রঙিন ফুলের নাচ। ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছে। প্রকৃতির এই রূপ ইটকাঠে ঘেরা রাজধানী ঢাকা শহরে খুব একটা দেখা না গেলেও হৃদয়ের বসন্ত থেমে থাকেনি। তাই তো গানের সুরে, নাচের ছন্দে, রঙির পোশাকের বর্ণচ্ছটায় প্রকৃতই রাজসিক আড়ম্বরে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিল নানা বয়সের মানুষ। গতকাল সোমবার পহেলা ফাল্গুনে ঢাকা হয়ে উঠেছিল উৎসবের নগরী। শুধু ঢাকা নয়, বসন্তবরণের এই উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছিল পুরো দেশ।

ভোর থেকেই রাজধানীর পথে পথে, বাসে, রিকশায়, সিএনজি অটোরিকশায়, অফিস-আদালতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বত্র চোখে পড়েছে বাসন্তী সাজে সজ্জিত নরনারীর উচ্ছল উপস্থিতি। গৃহবধূ থেকে তরুণী-কিশোরীদের পরনে ছিল বাসন্তী বা কমলা রঙের তাঁতের শাড়ি বা রঙিন সালোয়ার-কামিজ। মাথায় তাজা ফুলের রিং বা খোঁপায় ফুল, গলায় গাঁদা, গোলাপ বা রজনীগন্ধার মালা। পুরুষদের কারো পরনে রঙিন পাঞ্জাবি, কারো বা রঙিন ফতুয়া।

ঋতুরাজের রঙিন অভিষেকে ঢাকার শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলা, টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর, উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরে রবীন্দ্র সরণির মঞ্চে বসন্ত অভিষিক্ত হয়েছে নানা আয়োজনে।

বসন্তের রং ছড়িয়ে ছিল বইমেলায়ও। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে তিন দিনব্যাপী ‘বসন্ত উৎসব’।

এবারও জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে বসন্ত উৎসবের বড় আয়োজন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায়। ভোর থেকেই চারুকলার বকুলতলায় তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বকুলতলায় যেদিকে চোখ গেছে, সেখানেই লাল, সবুজ, হলুদ ও কমলার সমারোহ দেখা গেছে। ২২ বছর ধরে এ আয়োজন করে আসা জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদ সবাইকে ডেকেছে, ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’।

চারুকলায় উৎসবের সূচনা হয়েছিল গানের মধ্য দিয়ে। পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য, বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতিবন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময়, দলীয় সংগীত, দলীয় ও একক আবৃত্তি, একক সংগীত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনাসহ শিশু-কিশোরদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা। পরে সকাল ১০টায় বকুলতলা থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিকেলে শুরু হয়ে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব চলে রাত পর্যন্ত। এ ছাড়া পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর আর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে রবীন্দ্র সরণির উন্মুক্ত মঞ্চেও ছিল জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের বাসন্তী আয়োজন।

বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বসন্তে প্রকৃতিতে রঙ লেগেছে। এতে আলাদা মাত্রা পেয়েছে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ। তবে বাদ পড়েনি ইট-পাথরের নগরী রাজধানী ঢাকাও। এখানে সব বয়সী মানুষ মেতেছে এ উৎসবে। ’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ঐতিহাসিক বটতলায় সমগীত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ ঢাকা শাখার আয়োজনে হয় বসন্তবরণ উৎসব। ‘জাগাও প্রাণ, প্রকৃতিগান এই ফাগুনে’—এই আহ্বানে অনুষ্ঠিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। উৎসব উদ্বোধন শেষে বের হয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা শেষে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসের যন্ত্রসংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন করে হেংগরং শিল্পীগোষ্ঠী। পরে গান গেয়ে দর্শক মাতায় গানের দল লীলা, জলের গান ও সহজিয়া। একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কফিল আহমেদ ও কাজী কৃষ্ণকলি ইসলাম। এ ছাড়া ছিল শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ব্যবসায় অনুষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় কনসার্ট। অনুষদের শিক্ষার্থীরাই গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন।

এদিকে আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, বসন্তবরণ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা সেজেছিল বাসন্তী রঙের পোশাকে। সকাল ১১টায় বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ভাষা শহীদ রফিক ভবন প্রাঙ্গণে ‘বসন্তবরণ’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান হয়। উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।


মন্তব্য