kalerkantho


সাংবাদিক শিমুল হত্যা

মেয়র মিরুসহ ছয়জন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলায় স্থানীয় পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ ছয়জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে শাহজাদপুর উপজেলা আমলী আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম হাসিবুল হক এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের অন্য আসামিরা হলেন কে এম নাসির উদ্দিন, আরশাদ ভুইয়া, নাজমুল খাঁ, আলমগীর হোসেন ও জহির শেখ। এ ছাড়া শাহজাদপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধরের মামলায় মেয়রের ভাই হাফিজুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুকে সাত দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) জন্য আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আংশিক শুনানির পর বিচারক আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনে মেয়র মিরুসহ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তথ্য দিলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। ’

বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, অতিরিক্ত পিপি আবুল কাশেম, মশিউর রহমান চৌধুরীসহ পাঁচ-ছয়জন আইনজীবী। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সরকার।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ও র‍্যাবের বিশেষ পাহারায় পৌর মেয়র মিরুসহ অন্য আসামিদের শাহজাদপুর আমলি আদালতে হাজির করা হয়।

সাংবাদিক শিমুল হত্যা ও ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে মারধরের মামলায় পৃথকভাবে শুনানি হয়। সকাল ১০টায় সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলায় আটজনকে হাজির করে তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করা হয়। এরপর শুনানি শুরু হয় ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে মারধরের মামলায় রিমান্ড শুনানি।

শুনানি শেষে আদেশের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রথমে শাহজাদপুর থানায় নেওয়া হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে আবার সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ছয় আসামিকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, মেয়র মিরুসহ ছয়জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের দুটি দল এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে। মামলার সঠিক তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য