kalerkantho


ডিবির পরিচয় দেওয়া ১১ প্রতারক গ্রেপ্তার

প্রাইভেট কার, সিএনজির যাত্রী মূল টার্গেট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরনে ডিবি লেখা জ্যাকেট, কোমরে পিস্তল, হাতে হাতকড়া—দেখলে মনে হবে তারা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গভীর রাতে শহরে ঘুরে বেড়ায় তারা। তাদের টার্গেট প্রাইভেট কার বা সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী। সুযোগ বুঝে ওই যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নেয় তারা, ছিনিয়ে নেয় সব কিছু। তারপর দূরে কোথাও নিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। ডাকাতিও করে তারা।

সংঘবদ্ধ এই চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এমন তথ্য পেয়েছে ডিবি পুলিশ। গত শনিবার রাতে রাজধানীর সবুজবাগ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো ইউসুফ কাজী, আলাউদ্দিন আলী, আকাশ রহমান মিন্টু, আফসার আলী, ফারুক হোসেন, আবদুল মালেক মিয়া, মাসুদ পারভেজ, শাহীন কাজী, লিটন শেখ, মাসুম গাজী ও আসলাম শেখ।

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, রাজধানীতে ভুয়া ডিবি পুলিশের ছয়-সাতটি চক্র সক্রিয়। সবুজবাগে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ডিবির পূর্ব বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের সঙ্গী সাতজন পালিয়ে যায়।

যুগ্ম কমিশনার জানান, তাদের বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে তিনটি গাড়ি, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশি পাইপগান, একটি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, পাঁচটি হাতকড়া ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ইউসুফ কাজী তাদের দলনেতা। গাড়িগুলো ভাড়া করে আনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা গাড়িচালককে দলে ভিড়িয়ে নেয়। কখনো নিজেদের লোক দিয়ে গাড়ি চালায়। রাতে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের টার্গেট করে। তারপর গাড়িতে তুলে টাকা-পয়সা নিয়ে ফেলে রেখে যায়। তারা ডাকাতিতেও অংশ নেয়। দিনের বেলা যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হয় তাদেরও টার্গেট করে তারা।

যুগ্ম কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা কিভাবে এসব সামগ্রী পেল তদন্ত করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য