kalerkantho


পদ্মা সেতু নিয়ে কানাডার আদালতের রায়

সংসদে ক্ষোভ, বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পদ্মা সেতু নিয়ে কানাডার আদালতে দায়ের করা মামলার রায়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় গতকাল রবিবার উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা একই সুরে বিশ্বব্যাংক ও তাদের সমর্থনকারী এ দেশের প্রতিনিধিদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁরা বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ে মামলা করার দাবি জানান।

বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে অনির্ধারিত এই আলোচনা শুরু হয়। টানা তিন ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা বলেন, দুর্নীতিচেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এর জন্য বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ যাঁরা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তাঁরা দেশদ্রোহী। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে প্রধানমন্ত্রী এ সংসদে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে। বিশ্বব্যাংককেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী সফল হয়েছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেমন কারো কাছে মাথা নত করেননি, তেমনি তাঁর কন্যাও।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্মাণ করতে চেয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের এত শক্তি নেই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে হেয় করতে পারে। টিআইবিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এ সংস্থাটি বলে বিশ্বব্যাংকের কাছে কৈফিয়ত চাইতে। আমরা চাইব কেন, তারা কেন চায় না। এ ষড়যন্ত্রের পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ’

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওই সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, দুর্নীতির কারণেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এ কারণে সরকারের পদত্যাগও চেয়েছিলেন তিনি। এখন কী জবাব দেবেন খালেদা জিয়া। মিথ্যা অভিযোগের কারণে তাঁরই এখন পদত্যাগ করা উচিত।

রাশেদ খান মেনন বলেন, এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের তরফ থেকে মামলা করতে হবে। কারণ তারা গোটা রাষ্ট্রকে অপমান করেছে। আর যেসব গণমাধ্যমে সে সময় মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে ঝড় তুলেছিল, তাদেরও উচিত আত্মসমালোচনা করা।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, এ কারণে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের লোকসান হয়েছে, বিশ্বব্যাংককে তা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। যেসব বুদ্ধিজীবী তখন দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি একজন চাক্ষুষ সাক্ষী। মিথ্যা অভিযোগের পর বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা দেশে কার বাড়িতে ডিনার খেয়েছিলেন, সেখানে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন আমরা তা জানি। তদন্তের আগেই তাঁরা সৈয়দ আবুল হোসেনকে জড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ’

মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, বিশ্বে শেখ হাসিনার দৃঢ়চিত্ত অবস্থান আগামী দিনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পার্টির সরকারের আমলেও বিশ্বব্যাংক শর্ত ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়নি। আফ্রিকার দেশগুলোকে তারা শোষণ করে। বিভিন্ন দেশে নিজের কম্পানিকে প্রমোট করে। এখন প্রতিবাদ করার সময় এসেছে। ’


মন্তব্য