kalerkantho


প্রশ্ন হলের বাইরে, ভেতরে দেখে লিখছে পরীক্ষার্থী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এক পরীক্ষার্থী প্রশ্ন কক্ষের বাইরে নিয়ে এসেছে। সে প্রশ্ন দেখে উত্তর খুঁজছে বহিরাগত কয়েক যুবক।

কক্ষের ভেতরে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী একে-অন্যের খাতা দেখে লিখছে। সাংবাদিকদের দেখে পরীক্ষার্থীদের ‘সাবধান’ করে দিচ্ছেন কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। গতকাল রবিবার সকালে ঝালকাঠির বাউকাকাঠি বিন্দুবাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এমনই ছবি। এ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের (নকল) অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল ছিল এসএসসির গণিত পরীক্ষা। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১১টা ২০ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্রের (বিদ্যালয়ের মূল ভবনের পাশে) পেছনে এক পরীক্ষার্থী ও তিন বহিরাগত যুবকের জটলা। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ওই তিন যুবক পরীক্ষার্থীর হাতে থাকা প্রশ্নপত্র দেখে অঙ্কের একটি সমাধানের বই খুলে উত্তর খুঁজছেন। এ সময় ছবি তুললে দৌড়ে পালিয়ে যায় বহিরাগত তিন যুবক। পরীক্ষার্থী চলে যায় পরীক্ষা কেন্দ্রে।

পরে কেন্দ্রসচিবের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী একে-অন্যের খাতা দেখে লিখছে। কয়েকজন সাদা কাগজে লেখা উত্তর দেখে লিখছে। এ সময় ‘সাংবাদিক আসছেন’ বলে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা সাবধান করে দেন পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজনু মোল্লা কেন্দ্রের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কখনো শিক্ষকরা এসে তাঁকে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে নিয়ে ফল ও চা খাওয়াচ্ছেন। এ সুযোগেও নকল করে অনেক পরীক্ষার্থী।

অভিযোগের বিষয়ে বাউকাঠি বিন্দুবাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রসচিব সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়সহ আশপাশের ১২টি বিদ্যালয়ের মোট ৪০৬ পরীক্ষার্থী গণিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। দুজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। এই কেন্দ্র নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে। কেন্দ্রে কোনো বহিরাগত ঢুকতে পারে না। এখানে পুলিশ রয়েছে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ’

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজনু মোল্লা বলেন, ‘এখানে পরীক্ষার পরিবেশ ভালোই। কোনো শিক্ষার্থীকে নকল করতে দেখা যায়নি। আমি পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছি। ’


মন্তব্য