kalerkantho


যশোরে ইব্রাহিমের সুদের ফাঁদে সর্বস্বান্ত গ্রামবাসী

৫০ হাজারে সুদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা!

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে সুদাসলে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন গৃহবধূ রওশন আরা। এখন সুদের কারবারি আরো তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন। মুকুল হোসেন দুই লাখ টাকা নিয়ে পরিশোধ করেছেন পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা। এরপরও সুদের কারবারির হাত থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না মুকুল।

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামের ইব্রাহিম অস্বাভাবিক মুনাফার বিনিময়ে টাকা ধার দিয়ে এলাকার অনেককে এভাবে সর্বস্বান্ত করেছেন বলে অভিযোগে উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন তথাকথিত নেতা ও মোড়ল-মাতব্বরের সহযোগিতায় ইব্রাহিম এ অবৈধ সুদের ব্যবসা চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইব্রাহিম।

নরেন্দ্রপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মুকুল হোসেনের স্থানীয় রূপদিয়া বাজারে ‘মোড়ল মেডিক্যাল’ নামের একটি বড় ওষুধের দোকান ছিল। সুদ দিতে গিয়ে তিনি সেই দোকান হারিয়েছেন। বিক্রি করতে হয়েছে ফসলি জমি। এরপরও মুক্তি মেলেনি।

মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ইব্রাহিমের কাছ থেকে তিন বছর আগে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলাম। প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে আট মাসে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে আমার বাবা ৫২ শতক জমি বিক্রি করে আরো দুই লাখ টাকা দিয়েছে। কিন্তু ইব্রাহিম এখনো আরো টাকা দাবি করছে। ’ নরেন্দ্রপুর পূর্বপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা বলেন, “আমার স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে তাঁর চাকরির সমস্যা হলে ইব্রাহিমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিই। সে টাকার বিনিময়ে চেকে সই করে নেয়। পরে আমি তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন সে আরো তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে আমার নামে মামলা করেছে। এই মামলার কারণে আমাদের পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিদেশ থেকে স্বামী বলছেন, ‘তোর নামে মামলা হয়েছে, তোকে আর রাখব না’। ”

সূত্র জানায়, মুকুল, রওশন আরা, তবিবরের মতো অনেকেই ইব্রাহিমের সুদের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বাঁচার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি ব্যাংকের সিসি লোন নিয়ে মুকুলকে দুই-পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। সে-ও আমাকে দুই-পাঁচ শ টাকা দিয়েছে। সে আমার ভাই। এখন তার সঙ্গে কোনো লেনদেন নেই। রওশন আরার স্বামী সৌদি আরবে বিপদে পড়লে আমার কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে ৫০ হাজার টাকা শোধ করেছে। বাকি টাকার জন্য আমি মামলা করেছি। সে পুলিশকে যে টাকা দিয়েছে সে টাকা আমাকে দিলে হিসাব মিটে যেত। ’ ‘আপনি কি সরকারের অনুমোদন নিয়ে সুদের ব্যবসা করছেন?’ এর উত্তরে ইব্রাহিম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার অনুমোদন আছে। আমি ইনকাম ট্যাক্স দিই। ’


মন্তব্য