kalerkantho


২২ বছর পর সদর্পে রাজনীতিতে

মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা হত্যা মামলার আসামির

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জাতীয় পার্টির নেতা ও খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ আবুল কাশেম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এস এম মুশফিকুর রহমান। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

২২ বছর পর তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মুশফিকুর রহমান এ ঘোষণা দিয়েছেন খুলনায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

জাতীয় পার্টির নেতাদের একাংশ এই অনুষ্ঠান বয়কট করলেও উপস্থিত ছিলেন দলের খুলনা জেলা শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু ও সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন। মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মুশফিকুর রহমান অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।

এস এম মুশফিকুর রহমান এর আগেও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক তিনি। ২০০৮ সালে বাগেরহাট-১ (মোল্লাহাট-কচুয়া-ফকিরহাট) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হন মুশফিকুর রহমান। তবে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

১৯৯৫ সালে সদর থানার অদূরে বেসিক ব্যাংকের সামনে জাতীয় পার্টি খুলনা মহানগর শাখার সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম ও তাঁর গাড়িচালক মিকাইল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে এস এম মুশফিকুর রহমানকে অন্যতম হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই মামলায় আটক অন্য আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে মুশফিকুর রহমানের নাম বলেন। ১৯৯৭ সালে মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

জানা যায়, জাতীয় পার্টির নেতা কাশেম হত্যার আগে যুবলীগ নেতা টুটুল হত্যা মামলায় মুশফিকুর রহমানের ফাঁসির দণ্ড হয়েছিল।

জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আরিফুল হক জানান, কাশেম হত্যা মামলায় মুশফিক আদালত থেকে কোনো দিন জামিন গ্রহণ করেনি। ২০০৮ সালে এই মামলার অন্য এক আসামির আবেদনে উচ্চ আদালত তিন মাসের জন্য বিচারকাজ স্থগিত করেছিলেন। সেই স্থগিতাদেশের পর মামলাটি আজও সচল হয়নি।


মন্তব্য