kalerkantho


স্বাস্থ্যসেবা আইনের খসড়া তৈরি

অবহেলার শিকার হলে মামলা করা যাবে

রেজাউল করিম   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অবহেলার শিকার হলে মামলা করা যাবে

বেসরকারি চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার ফি নির্ধারণেরও বিধান রেখে ‘স্বাস্থ্যসেবা আইনের’ খসড়া তৈরি হয়ে গেছে। আইন কমিশন এ খসড়া তৈরি করে গতকাল রবিবার আইন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ওই খসড়ার একটি কপি কালের কণ্ঠ পেয়েছে।

আইনের ওই খসড়ায় চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও অবহেলাজনিত ক্ষতিসহ এসংক্রান্ত বিরোধগুলো নিষ্পত্তির জন্য ‘স্বাস্থ্যসেবা বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেউ অবহেলার শিকার হলে তিনি আইনগত সুরক্ষা পাবেন।

তবে ট্রাইব্যুনালকে দেওয়ানি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। বিচার শেষে রায়ে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দিতে পারবেন।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক স্বাক্ষরিত আইনের খসড়াসহ সুপারিশে—নাগরিক, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে ওই খসড়ায়। তা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারকির জন্য ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন গবেষণার পর এই আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করল কমিশন।

এই আইন প্রণয়নের জন্য একটি খসড়া আইনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই খসড়া আমলে নিয়ে দ্রুত এসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. এম শাহ আলম বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক দায়িত্ব পূরণ করার নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই মধ্যে ২০১১ সালে বাংলাদেশে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি গৃহীত হয়েছে এবং ওই স্বাস্থ্যনীতিতে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যনীতিতে সুস্বাস্থ্যের সংজ্ঞাকে কেবল শারীরিক সুস্থতার গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিক শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কল্যাণবোধের সম্প্রসারিত অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যমাত্রাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরিখে গ্রহণযোগ্য করেছে।

আইন কমিশনের তৈরি করা স্বাস্থ্যসেবা আইনের খসড়ার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীর অধিকার ও দায়দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। এর ৫ ধারায় যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীকে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র, মজুদ সাপেক্ষে বিনা মূল্যে ওষুধ, বিনা মূল্যে বা অনুমোদিত মূল্যে মানসম্মত খাবার ও পথ্য এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বা আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা পাওয়ার অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য