kalerkantho


পদ্মার চরে স্বজনের অশ্রুপাত মেলেনি দুই শিক্ষার্থীর খোঁজ

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পদ্মার চরে স্বজনের অশ্রুপাত মেলেনি দুই শিক্ষার্থীর খোঁজ

নিখোঁজ শাওনের স্বজনদের কান্না উপস্থিত অন্যদেরও চোখ ভিজিয়ে দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মার চরে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজ মেলেনি গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত। মিজানুর রহমান ও শাওন সরকার নামে এ দুজন নিখোঁজ ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁদের সন্ধানে শুক্রবার অভিযান শুরু করা হলেও দীর্ঘ সময় পরও সফলতা আসেনি। গতকাল দিনভর শিক্ষার্থীদের স্বজন ও সহপাঠীরা অশ্রুপাত করেছে পদ্মার চরে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের পাশাপাশি স্বজনরাও নদীর আশপাশে খোঁজ চালাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার রাউফুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে কাজ ব্যাহত হলেও উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। শিক্ষার্থীদের ডুবে যাওয়ার স্থানটি সঠিকভাবে কেউ দেখাতে পারছে না। ’

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা কাজ করছে। দুজন শিক্ষার্থীর কোনো খোঁজ মেলেনি। অন্য শিক্ষার্থীদের শনিবার সকালে শিক্ষকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার দোহারে মৈনট ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীর মাঝে জেগে উঠেছে একটি চর, যা দেখতে প্রায় ছুটির দিনে শিক্ষার্থীসহ পর্যটকরা ছুটছে। কেউ বা পিকনিক করছে এ চরে। গত শুক্রবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ফার্মগেট শাখার ৩৪ শিক্ষার্থী এ চরে গিয়েছিল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ আগে থেকেই অবস্থান করছিল। শিক্ষার্থীদের এ আনন্দ আয়োজন সন্ধ্যায় ছেয়ে যায় বিষাদে। নদীতে পড়ে যাওয়া ফুটবল তুলতে গিয়ে ডুবে যান শাওন ও মিজান নামের দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের সন্ধান পেতেই এখন চলছে প্রাণান্তকর চেষ্টা।

সহপাঠী পঙ্কজ দে জানান, মৈনটে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষার্থী চরে আগে থেকেই ছিল। তাদের অনেকে ফুটবল খেলছিল। মিজান ও শাওন তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে ফুটবলটি নদীতে পড়ে গেলে একজন পানিতে নামেন। কিন্তু ঢাবির ওই শিক্ষার্থী ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে মিজান ও শাওন তাঁকে উদ্ধারে যান। সেই শিক্ষার্থীকে পানি থেকে তোলা সম্ভব হলেও উপস্থিত অন্যদের চেষ্টা ব্যর্থ করে নদীতে হারিয়ে যান মিজান ও শাওন। মিজানুর রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর আহম্মদপুর গ্রামে। বাবার নাম নজরুল ইসলাম চৌধুরী। শাওন সরকারের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার হাটিবাড়ি রত্নদিয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নিতাই সরকার।

গতকাল পদ্মার চরে গিয়ে দেখা যায়, দুই শিক্ষার্থীর স্বজন ও সহপাঠীদের অনেকে উপস্থিত সেখানে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ডুবুরিরা রয়েছেন। আশপাশের তীরের বাসিন্দারাও শামিল উদ্ধার অভিযানে। তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে বালুচরে বসেই বিলাপ করছেন নিখোঁজ শিক্ষার্থী শাওন সরকারের মাসি পূর্ণিমা সরকার ও কেয়া সরকার। নদীতে থাকা একটি নৌকায় বসে কাঁদতে দেখা যায় বোন ঝুমা সরকারকে। মা সন্ধ্যা সরকার ছেলেকে খুঁজতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, নিতাই সরকার তাঁকে নিয়ে ছুটেছেন নদীর ওপারে এক আত্মীয় বাড়িতে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ফার্মগেট শাখার তৃতীয় বর্ষের পাঁচ ছাত্রীসহ ৩৪ শিক্ষার্থী বাসযোগে দোহার পৌঁছে। দুপুরে তারা মৈনট ঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে নদীর মাঝে  জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যায়। চরটি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় অবস্থিত। সেখানেই ঘটে এ দুর্ঘটনা।


মন্তব্য