kalerkantho


সাংবাদিক শিমুল হত্যা

এবার ভিডিও ফুটেজ দেখে দুজন গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করার সময় গুলিতে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল নিহত হওয়ার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে শিমুল হত্যা মামলায় শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গত শুক্রবার রাতে শাহজাদপুর বিসিক বাসটার্মিনাল থেকে আটক দুজন হলো পৌর এলাকার বারাবিল গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন প্রামাণিকের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫) ও জান্নাতপুর গ্রামের হাজি জিন্দার আলীর ছেলে হযরত আলী (৪৮)। তাঁদের মধ্যে হযরত আলী  পৌরসভা ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময়ে ভিডিও ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে দুজনকে শাহজাদপুর আমলী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শিমুল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে সাতজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) জন্য পুলিশ আবেদন করেছে। সবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে আগামীকাল সোমবার।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুকে মারধরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

খবর সংগ্রহ করার সময় সমকাল পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শিমুল গুলিতে আহত হন। পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তাঁর দুই ভাইসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

শিমুলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল শাহজাদপুর উপজেলা শাখা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মৌন মিছিল ও শোকসভা করেছে। সকাল ১১টায় জোটের কার্যালয় থেকে মৌন মিছিল বের হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে স্থানীয় সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শোকসভা করে সংগঠনটি। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাট্যশিল্পী এ এ শহিদুল্লাহ বাবলু। বক্তব্য দেন বিবর্তন নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি কাজী শওকত, আবৃত্তি শিল্পী লাভলু খান, নজরুল সাংস্কৃতিক পরিষদের পরিচালক বায়েজিদ হোসেন, নজরুল একাডেমির পরিচালক মেজবাহ রানা, নৃত্যলোকের পরিচালক কামরুন্নাহার লাকী, বাবুল হোসেন প্রমুখ।


মন্তব্য