kalerkantho


রৌমারী রাজীবপুরে বিদ্যুতের তামাশা

দিনে ২০ ঘণ্টাই লোডশেডিং

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের এমন আচরণে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও বোরোক্ষেতের সেচ পাম্পসহ প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক অতিষ্ঠ। জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই অসহ্য যন্ত্রণা চলছে ১৫ দিন ধরে। এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে কত দিন লাগবে সেটাও বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল জলিল বলেন, ‘বিদ্যুতের এ অবস্থার এখনই সুরাহা হচ্ছে না। কেননা জাতীয় গ্রিড সার্বক্ষণিক ওভারলোড হয়ে থাকে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুর জেলায় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ চাহিদা তা সরবরাহ করতে পারছে না জাতীয় গ্রিড। নতুন করে আলাদা জাতীয় গ্রিড নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার উন্নতি দেখছি না। ’

গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই লোডশেডিং দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৩০ মিনিটের জন্য, রাত ১২টার পর এক ঘণ্টার জন্য, ভোর ৫টার দিকে দেড় ঘণ্টার জন্য আর বিকেলে কোনো কোনো দিন ৩০ মিনিট বিদ্যুতের দেখা মেলে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে ছোট ছোট শিল্প-কারখানা, কম্পিউটার-ফটোকপি দোকান অচল হয়ে পড়েছে।

বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত ও হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে না পারায় চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

লোডশেডিংয়ে কারণে বোরোক্ষেতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিপদে পড়েছে চাষিরা। বিদ্যুত্চালিত সেচ পাম্পগুলো বন্ধ হওয়ায় সেচনির্ভর প্রায় ১০ হাজার একর বোরো এবার হুমকির মুখে রয়েছে। চাকতবাড়ি এলাকার কৃষক আতা এলাহী জানান, বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে তাঁর পাঁচ একর বোরোক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কোনো উপায় না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বিকল্প সেচব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকরা জানায়, এখন বোরো ধান লাগানোর উপযুক্ত সময়। ক্ষেত চাষ উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন। বিদ্যুতের উন্নতি না ঘটলে হাজার হাজার কৃষককে পথে বসতে হবে।

রৌমারী বাজারের কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোকপি দোকানি সুখ বাদশা বলেন, ‘বিদ্যুৎ না পেয়ে আমার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসার অবস্থা। ’

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পানা উল্লাহ জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। শম্ভুগঞ্জ বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্রের একটা ইউনিট বন্ধ এবং জামালপুর বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র থেকেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ’


মন্তব্য