kalerkantho


ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হত্যা

আসামিদের নিয়ে মঞ্চে এমপি সুকুমার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আসামিদের নিয়ে মঞ্চে এমপি সুকুমার

শুক্রবার বিকেলে ছাতিয়ানতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানমঞ্চে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জনের সঙ্গে আসিফ হত্যা মামলার ২নং আসামি কৌশিক আহমেদ ইয়ামিন (নিচে গোলচিহ্নিত) এবং ৪নং আসামি নুরুল আমিন (ওপরে গোলচিহ্নিত)। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হত্যা মামলার আসামিরা এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে আসিফের পরিবার, এমনকি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ওই হত্যার সুষ্ঠু বিচার হওয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা। গত শুক্রবার বিকেলে জেলার ছাতিয়ানতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। মঞ্চে উঠে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে আসিফ হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি কৌশিক আহমেদ ইয়ামিন, ৪ নম্বর আসামি ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল আমিন ও ১২ নম্বর আসামি ফলিফা রনিকে।

ওই তিন আসামি মঞ্চে উঠে এমপির সঙ্গে কথা বলায় তাত্ক্ষণিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, হত্যা মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে যখন এমপি মঞ্চে ওঠেন তখন দলের ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণেই তারা মঞ্চ থেকে নেমে এসেছে।

আসামিদের নিয়ে মঞ্চে ওঠার ব্যাপারে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার দুই পাশে কোনো আসামি ছিল না। পেছনে কারা উঠেছে আমি দেখিনি। ’ ইয়ামিনের নাম উল্লেখ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই নামে আমি কাউকে চিনি না।

’  

আসিফের পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানালেও এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ মামলার আসামিদের নিয়েই এলাকায় ঘুরছেন।

আসিফের বড় বোন জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক নুসরাত জাহান তনিমা বলেন, ‘লোক পাঠিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বখাটে যুবক কৌশিক আহম্মেদ ইয়ামিনসহ সন্ত্রাসীরা গত বছর ১২ এপ্রিল আমার ভাই আসিফকে পিটিয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তার চিকিত্সা না করিয়ে সিরাজদিখান থানার ওসি কোনো অভিযোগ ছাড়া পরদিন মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও থানা পুলিশ গুরুতর অসুস্থ আসিফকে যথাযথ চিকিত্সার ব্যবস্থা না করিয়েই মুন্সীগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। তাদের অবহেলা ও রহস্যজনক মিথ্যা মামলা এবং সুচিকিত্সা না করার কারণেই দুই দিন পর জেলখানায় আমার ভাই মারা যায়। ’

আসিফের মা জহুরা আসমা বলেন, আসিফকে ডেকে নেওয়ার সময় উপজেলার কোলা ডাকঘরের পাশে ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হাসান ও কৌশিক আহম্মেদ ইয়ামিনসহ ৮-১০ জন উপস্থিত ছিল। তারা নির্মমভাবে আসিফকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

এদিকে আসিফ হত্যার পর ১০ মাস পার হলেও এখনো মামলার প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। ওই মামলা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

সিআইডির একটি সূত্র জানায়, আসিফ হত্যা মামলার ১২ আসামিই উচ্চ আদালতের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছে। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই শুভ্র প্রকাশ দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিগগিরই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। ’


মন্তব্য