kalerkantho


টিস্যু কালচারে ফুলের অনুচারা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো অ্যাগ্রোব্যাক টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উত্পাদন করা হয়েছে ফুলের অনুচারা। দুর্গাপুরের একটি ল্যাবে জারবেরা, ইউস্টোমা, লিলিয়াম, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদাসহ আট জাতের অনুচারা উত্পাদনে সফলতা এসেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে করে কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এরই মধ্যে ওই ল্যাব থেকে ফুলের চারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩৭টি টিস্যু কালচার ল্যাব রয়েছে। এসবে আলু, আখসহ নানা ফসলের অনুচারা উত্পাদন হয়ে আসছে। কিন্তু এবার রাজশাহীর দুর্গাপুরে ল্যাবে ফুলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু হলো। চাষিরা বেশির ভাগ ফুলের চারা ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানি করে থাকে। এতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লেগে যায়। আবার প্রচুর অর্থও ব্যয় হয়। তবে দুর্গাপুরের ল্যাব থেকে ফুলের অনুচারা সরবরাহ করা হলে ফুলচাষিদের আর ভারতমুখী হতে হবে না।

অ্যাগ্রোব্যাকের পরিচালক ও টিস্যু কালচার গবেষক মতিউর রহমান বলেন, ‘এ পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে জারবেরা, পাউলোনিয়া, ড্রাগন ফ্রুট, পান, লিলিয়াম, আখসহ ১১টি উদ্ভিদের অনুচারা আমরা উত্পাদন করতে পেরেছি, যা এরই মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিও শুরু হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘কৃষকের কল্যাণের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে প্লান্ট টিস্যু কালচার ইন্ডাস্ট্রি গঠন করা হবে। এতে ফুলের চারা তৈরি করে কৃষকের চাহিদা পূরণ করা হবে। চারার জন্য দেশের ফুলচাষিদের বিদেশে যেতে হবে না। ’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘এই ল্যাবে আমাদের বাংলাদেশের ফুলচাষিরা আশার আলো দেখছে। এখন থেকে আর ভারত থেকে ফুলের চারা আমদানির প্রয়োজন হবে না। আমাদের দেশেই অ্যাগ্রোব্যাক টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের উত্পাদিত চারা চাষিরা প্রয়োজনীয় সময়ে কিনে নিয়ে যেতে পারবে। এটি ভারতের তুলনায় গুণগত মানের দিক থেকেও ভালো ও সাশ্রয়ী হবে। ’ 

ফুলচাষি শের আলী বলেন, ‘অ্যাগ্রোব্যাক বাংলাদেশে প্রথম এবং একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত প্রযুক্তির টিস্যু কালচারের মাধ্যমে কয়েকটি ফুলের চারা উত্পাদন এবং সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ জারবেরার মতো ফুলের চারা বিদেশ থেকেই আমদানি করা হয়ে আসছে। কিন্তু এখন থেকে আর বিদেশে যাওয়া লাগবে না। ’

এদিকে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ফুলের অনুচারা উত্পাদন আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুর্গাপুরে ইউএসএইডের আর্থিক সহযোগিতায় একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। এতে যশোরের গদখালি ও ঝিনাইদহ থেকে একদল কৃষক অংশ নেয়। সভায় ফুল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাগ্রোব্যাকের পরিচালক ও গবেষক মতিউর রহমান।

অ্যাগ্রোব্যাক টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ফুলের অনুচারা উত্পাদনের আরেক কর্ণধার মফিজুল ইসলাম মোহন বলেন, ‘আমরা খুবই অভিভূত ও আনন্দিত। আমাদের উত্পাদিত ফুলের অনুচারা দেশে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ’


মন্তব্য