kalerkantho


শাহ আরফিন টিলায় আবার শ্রমিকের মৃত্যু

বিছনাকান্দির ঘটনায় মামলা

সিলেট অফিস   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরফিন টিলায় পাথর উত্তোলন করার সময় মাটিধসে আবারও শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিলা কাটার সময় মাটিচাপা পড়ে একজন নিহত এবং দুজন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, তিন শ্রমিক মারা গেছেন।

এ অবস্থায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে এবারও ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি একই টিলায় পাথর উত্তোলনের সময় মাটিধসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। শুরুতে পুলিশ দুজনের মৃত্যুর খবর জানায়। ওই ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি বায়েস আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে পাথর তোলার সময় মাটিধসে প্রাণহানির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে।

আরেফিন টিলায় মাটিধসে নিহত পাথর শ্রমিকের নাম আনিস (৩৫)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহমদাবাদ গ্রামের কমর উদ্দিনের ছেলে।

এ ঘটনায় আহত আব্দুল মান্নান (৩৫) ও মিজানুর রহমানকে চিকিত্সার জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন একজনের মৃত্যু ও দুজনের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে।

জানা গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। কাউকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না।

স্থানীয় দুজন সাংবাদিক ওই এলাকার লোকজনের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, মাটিচাপায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুজন।

এদিকে গোপনে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে আব্দুল করিম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন।

ওসি প্রত্যাহার : আগের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি বায়েস আলমকে গতকাল জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা। তিনি বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি শাহ আরফিন টিলায় মাটিধসে প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি শাহ আরফিন টিলায় পাথর উত্তোলনের সময় মাটিধসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়। গত বুধবার কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ইজারাদারসহ ৪৭ পাথরখেকোকে চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া তদন্তে ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাফিলতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

বিছনাকান্দির ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার, পাথর উত্তোলন বন্ধ : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে পাথর তোলার সময় মাটিধসে প্রাণহানির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে গোয়াইনঘাট থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে অভিযান চালিয়ে ১০টি শ্যালো মেশিন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই এলাকার পাথর কোয়ারিতে গোপনে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় মাটিচাপায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁদের লাশ গোপনে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আরেক শ্রমিককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলায়। তাঁর লাশও উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন। এই ঘটনায় করা মামলার আসামিরা হলেন পাথর ব্যবসায়ী বিছনাকান্দির বাছির মিয়া, আজাদ মিয়া, কামাল হোসেন, চট্টগ্রামের জাহিদ মিয়া ও লক্ষ্মীপুরের রাজু মিয়া ওরফে জাহিদ হাসান। তাঁদের মধ্যে জাহিদ ও রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে গতকাল অভিযান চালানো হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন, কোয়ারিগুলোতে বর্তমানে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। সেখানে অভিযানের সময় ১০টি শ্যালো মেশিন পেয়ে সেগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।


মন্তব্য