kalerkantho


রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে অনড় শিক্ষকরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে অনড় শিক্ষকরা

শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এর আগে আন্দোলন করে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট প্রথা বাতিল করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে শিক্ষার্থীরা।

ওই আন্দোলন শেষ হওয়ার পর পরই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা। এতে দুই সপ্তাহের বেশি শিক্ষা কার্যক্রম অচল হয়ে আছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের অপমান করা, জিম্মি করা এবং ফেসবুকে অশালীন মন্তব্যকারীদের শাস্তির দাবিতে অনড় রয়েছেন তাঁরা। দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির পর গতকাল শনিবার শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেননি। নেননি কোনো পরীক্ষা।

শিক্ষকদের অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বুধবার ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের (আইআইসিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শহীদ উজ জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা করেছে।

সভায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি এন এইচ এম কামারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ আন্দোলন চালিয়ে যাব। ’

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা ক্লাসে ফিরতে চায়। ক্ষমা প্রার্থনার জন্য গতকাল তারা ক্যাম্পাসে গেলেও শিক্ষকরা তাদের কথা শোনেননি। আপাতত ক্ষমা প্রার্থনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে তারা জানিয়েছে।

শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ক্ষতি হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে আমরা শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনায় বসব। ’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, ডিন ও শিক্ষকদের অবরোধ করে। ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পর ওই দিন রাতে এক জরুরি সভায় উপাচার্যসহ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা, ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া শিক্ষক সমিতি। এর পর থেকেই শিক্ষকদের কর্মসূচি চলছে।


মন্তব্য