kalerkantho


অপহূত ছয় শিশুর নাম পেয়েছে র‍্যাব

তিনজনকে বিদেশে পাচার

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অপহূত ছয় শিশুর

নাম পেয়েছে র‍্যাব

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা অপহরণকারীচক্রের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহূত ছয় শিশুর নাম জেনেছে র‍্যাব। এদের মধ্যে ইতিমধ্যে বিদেশে পাচার করা হয়েছে তিনজনকে। এরা হলো বরিশালের আলামিন (৮), শুভ (৭) ও ইমন (১৪)।

এ ছাড়া হৃদয় (৮), সুমন (৬) ও আনন্দ (৭) নামে অপহূত আরো তিন শিশুর নাম পেয়েছে র‍্যাব। তবে তাদের বাড়ি কোথায় তা জানা যায়নি। গ্রেপ্তার হওয়া অপহরণকারীচক্রের ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব এ তথ্য পেয়েছে।

ওই চক্রের হোতা জাকির হোসেনের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে র‍্যাব-১১-এর পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই চক্রটি এ পর্যন্ত ১৭ শিশুকে অপহরণ করেছে। এর মধ্যে তিন শিশুকে হত্যা করেছে তারা। ছয় শিশুকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা পেয়ে আট শিশুকে ছেড়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে জাকির।

ওই চক্রের হোতা জাকির র‍্যাবকে জানায়, শাহাবুদ্দিন নামে তাদের এক সদস্য ওমানে থাকে।

মুনির হোসেন নামে আরেক সদস্যসহ কয়েকজনের মাধ্যমে শিশুদের ওমানে শাহাবুদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হতো।

অপহূত শিশুদের বিদেশে পাচারের কৌশল সম্পর্কে জাকির র‍্যাবকে জানায়, ওই শিশুদের ইনজেকশন দিয়ে চক্রের একজন নারী সদস্যকে মা সাজিয়ে বিদেশে পাচার করা হতো।

চিকিত্সকদের কাছে খোঁজ নিয়ে র‍্যাব জানতে পেরেছে, মানসিক প্রতিবন্ধীদের যে ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয় ওই ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হলে ওই ব্যক্তি চোখ মেলে থাকবে, তবে তাদের স্বাভাবিক গতি থাকবে না। তারা বেঁচে থাকবে, তবে কথা কম বলবে।

র‍্যাব জানায়, এ ধরনের চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে শিশুদের বিমানবন্দরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া হতো। বিমানবন্দরের একশ্রেণির অসাধু সদস্য এই চক্রকে সহযোগিতা করত।

জাকির র‍্যাবকে জানায়, বিদেশে পাচার করতে পারলে তারা শিশুপ্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পায়। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই শিশুদের পাসপোর্ট করায়।

র‍্যাব বলেছে, চক্রের সদস্য শাহাবুদ্দিন তার পরিবার নিয়ে প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াত করে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা তথ্য দিয়েছে। এই চক্রটি শিশুদের অঙ্গপ্রতঙ্গ বিক্রির ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে সন্দেহ র‍্যাবের।

এদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া একমাত্র শিশু বায়েজিদের দেওয়া তথ্য জানিয়ে লে. কর্নেল কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন,  অর্থ আদায়ের জন্যই ওই চক্র শিশুদের জিম্মি করত।

উদ্ধার হওয়া শিশু বায়েজিদ র‍্যাবকে জানিয়েছে, ওই চক্রটি তাকে ধরে নিয়ে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখেছিল। সেখানে অনেক শিশুকে সে দেখেছে। শিশুদের মুখ চেপে ধরে মারা হতো। কান্নাকাটি করলেই ইনজেশন দেওয়া হতো।

বায়েজিদ র‍্যাবকে জানায়, একদিন তাকে মা-বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসে তোলা হয়। ওই মাইক্রোবাসে আরো দুটি শিশু ‘অচেতন’ অবস্থায় ছিল। এক সময় ওই দুটি শিশুকে ওরা নদীতে ফেলে দেয়।

বায়েজিদের সামনেই যে দুটি শিশুকে হত্যার পর অপহরণকারীরা নদীতে ফেলে দেয় তাদের নাম আকাশ (১০) ও নাজমুল (৯)। গত মাসে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রূপগঞ্জের ভুলতার এই দুই শিশুকে অপহরণ করে ওই চক্রের সদস্যরা। এরপর চক্রের হোতা জাকিরের বাসায় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক ইনজেকশন দিলে দুটি শিশুই মারা যায়। পরে লাশের সঙ্গে ভারী কিছু বেঁধে কাঁচপুর সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। লাশ দুটি আর পাওয়া যায়নি।

লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, শিশু বায়েজিদকে গত ১৮ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি ফুট ওভারব্রিজের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় সে কিছুটা অসুস্থ ছিল। র‍্যাবের তত্ত্বাবধানে বায়েজিদের মা-বাবার উপস্থিতিতে তাকে সুস্থ করা হয়। এরপর বায়েজিদ ওই চক্র সম্পর্কে র‍্যাবকে অনেক তথ্য দেয়।

সম্প্রতি অপহরণকারীচক্রের হোতা জাকির হোসেন ও জাকিরের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ওরফে বানেছা, মোহাম্মদ হোসেন সাগর ওরফে বেলু ওরফে দেলু, টিটু, জেসমিন বেগম ও আসলাম আলামিনকে আটক করে র‍্যাব। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়েছে।

 


মন্তব্য