kalerkantho


নরসিংদীতে শিশু স্বপন হত্যা

তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নরসিংদীতে শিশু স্বপন মিয়ার ঘাতকদের কাছ থেকে টাকা পেয়ে পুলিশ প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে চাইছে। এমন অভিযোগ তুলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত শিশু স্বপনের পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী নিহতের মা শুক্কুরী বেগম বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোতাব্বির হোসেন মামলার প্রধান আসামি ডা. এনামুল হাসান ও তার ভাই সানা উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো জবানবন্দি আদায় করেনি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে চারজন জড়িত থাকার কথা জানালেও এখন তা আড়ালের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি, আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে পুলিশ এখন প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে। তাই আমরা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোতাব্বির হোসেনের পরিবর্তন ও সব হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা ইসমাইল হোসেন ও দাদি শাহারা বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নরসিংদী সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক মোতাব্বির হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ডা. এনামুল হাসানের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আর আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার এখতিয়ার আমার নয়, আদালতের।

’ মামলাটির তদন্তভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পুলিশের বিশেষ শাখা পিবিআইয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার বকশালীপুর গ্রাম থেকে শিশু স্বপনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে একই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। আগের দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় শিশু স্বপন। এ ঘটনায় শিশু স্বপনের মা শুক্করী বেগম বাদী হয়ে একই এলাকার ডা. এনামুল হাসান ওরফে হাসেম ডাক্তার, তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের নামে সদর থানায় মামলা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, ২৫০ টাকা চুরির অপবাদে শিশু স্বপনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা।


মন্তব্য