kalerkantho


দুদক দল কালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুদক দল কালিয়া

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের পাশাপাশি সেবিকাদের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে দুদকের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ড. মো. আবুল হাসান, প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুজ্জামান, যশোর অঞ্চলের উপপরিচালক জাহিদ হোসেন ও উপপরিচালক রবিউল ইসলাম কালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রভাষ কুমার দাশ এ সময় অনুপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্যদিনের মতো সেদিনও তিনি ছুটিতে ছিলেন বলে জানতে পারে দুদকদল।

উপস্থিত চিকিৎসক ডাক্তার খান শাহরিয়ার ও শাহেদুর রহমান সাগর দুদকদলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তাঁরা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রভাষ কুমার দাশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছেন। তিনি প্রতি সোম থেকে বুধবার তিন দিন নিজ বাড়ি খুলনায় অবস্থান করেন। হাসপাতালটিতে নিজ কর্তৃত্ব বজায় রাখতে তিনি নানা কায়দায় অপছন্দের ডাক্তারদের বদলি করে দিয়েছেন। যে কারণে বর্তমানে ২৯টি চিকিৎসকের পদের স্থলে আছেন মাত্র চারজন।

বাকি ২৫টি পদই শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাক্তার তুষার কুমার পোদ্দারকেও তিনি বদলি করিয়েছেন। এরপর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

ওটি বয় আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসপাতালের কর্মচারীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। তিনি একটি লোন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করলেও তাঁকে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে তা দেননি। ফার্মাসিস্ট আশিষ কুমার বাগচি বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ হাসপাতালে ডাক্তাররা টিকতে পারছেন না।

চিকিৎসা নিতে আসা সালামাবাদ ইউপি সদস্য জয়বাংলা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপরিচ্ছন্নতা নিয়মিত হলেও সেদিকে কর্তৃপক্ষের কোনো দৃষ্টি নেই। এ ছাড়া হাসপাতালের সেবিকাদের বিরুদ্ধে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

দুদক কমিশনার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে সতর্ক করেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রভাষ কুমার দাশের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ডাক্তার স্বল্পতাসহ নানা অনিয়ম ও সমস্যা বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম দুদকদলের সঙ্গে ছিলেন।


মন্তব্য