kalerkantho


ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি

চট্টগ্রামে ধরাছোঁয়ার বাইরে আরো অনেক স্কুল

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামে ধরাছোঁয়ার বাইরে আরো অনেক স্কুল

চট্টগ্রাম নগরের কাতালগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এক ছাত্রের কাছ থেকে ৪১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির সাউথ পয়েন্ট স্কুলে নার্সারি শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পুনঃ ভর্তির জন্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে অষ্টম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ এক ছাত্রের কাছ থেকে ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে ৫২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ছয় হাজার টাকা নেওয়া হয়। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির অর্কিড স্কুলে ভর্তি ফি বাবদ ছয় হাজার ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি এই চারটি স্কুলই শুধু নয়, এ রকম অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে নগরের নামিদামিসহ আরো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে।

জানা গেছে, ৪৬টি মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি স্কুলে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন।

কিন্তু প্রকাশ্যে ভর্তি, পুনঃ ভর্তিতে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে বাড়তি ফি আদায় করলেও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

তবে জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়তি ফি নিয়ে তারা কোথায় যাবে, দেশের বাইরে তো পালিয়ে যেতে পারবে না। ব্যবস্থা নেওয়া হবে অতিরিক্ত ফি আদায়কারীদের বিরুদ্ধে। ’

এদিকে নগরে বেসরকারি বিভিন্ন স্কুলের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত ৪৭টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলেও সরকার নির্ধারিত তিন হাজার টাকার অতিরিক্ত ভর্তি ও পুনঃ ভর্তিতে ফি আদায় করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ৪৬টি মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি স্কুলে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। ওই স্কুলগুলোকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভর্তি বাবদ নেওয়া অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ৪৬টির বাইরে যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

বাড়তি টাকা ফেরত না দিলে স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

করপোরেশনের স্কুলগুলোতে বাড়তি ফি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক মাসের বেতনসহ তিন হাজার টাকার বেশি ভর্তিতে নেওয়া হলে আমরা বেতন পরে নেব। ’

ভর্তি কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে জানিয়ে ডিউক বলেন, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুই হাজার ৯৪০ টাকা, নবম ও দশম শ্রেণিতে দুই হাজার ৯৯০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে এক মাসের বেতন (জানুয়ারি) নেওয়া হয়। অতিরিক্ত ফি আদায়ের কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক কাজী নাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি শুনেছি ৪৬টি স্কুলকে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার জন্য শোকজ করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি টাকা ফেরত না দিলে জেলা প্রশাসন থেকে যদি আমাদের কাছে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয় তখন বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। ’

যে ৪৬টি স্কুলে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন তার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের নামিদামি অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগং গ্রামার স্কুল, ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল, চট্টগ্রাম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ, চিটাগং ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল, বিএএফ শাহীন কলেজ, সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।


মন্তব্য