kalerkantho


‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ উৎসব শুরু আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ উৎসব শুরু আজ

একুশের স্মৃতিবিজড়িত ভাষার মাসে বাংলা চলচ্চিত্রকে সাধারণ দর্শকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আজ শুক্রবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে শুরু হচ্ছে ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ শীর্ষক বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ১৬তম এ উৎসব আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ।

পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উৎসবের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠ।

এবারের উৎসবে দুই বাংলার ধ্রুপদী ও সমসাময়িক মিলিয়ে মোট ২০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ৩০ মিনিট, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে। আজ প্রথম দিন শুক্রবার প্রদর্শিত হবে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘জনঅরণ্য’, মালেক আফসারী পরিচালিত ‘এই ঘর এই সংসার’, আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘ছুটির ঘণ্টা’ ও কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত ‘সিনেমাওয়ালা’।

উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায়। অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক ও চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরুকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে নির্মিত শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রকে প্রদান করা হবে ‘হীরালাল সেন পদক’। এ চলচ্চিত্র নির্বাচনে ইতিমধ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি জাজ কমিটি করা হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম উপস্থিত থেকে এ পুরস্কার তুলে দেবেন। আরো উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ‘সুস্থ চলচ্চিত্র সুস্থ দর্শক’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বিশ্বের নানা ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারে বিশেষ অবদান রাখছে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র নিয়ে সংসদ আয়োজন করে ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ শীর্ষক চলচ্চিত্র উৎসব। এটার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস এবং সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রকে সাধারণ দর্শকের কাছে তুলে ধরা হয়।

চারুকলায় ‘কালারস’ প্রদর্শনী শুরু : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষের ১৪ জন নারী শিল্পীর ‘কালারস’ শীর্ষক সাত দিনব্যাপী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শিল্প সমালোচক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক প্রমুখ। উদ্বোধনী শেষে গ্যালারিতে শিল্পকর্মগুলো ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলোর অন্তর্নিহিত অর্থের বর্ণনা দেন শিল্পীরা। এই প্রদর্শনী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

উদ্বোধনপূর্ব বক্তৃতায় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এমন এক সমাজ গড়ে তোলা যেখানে সবাই শিল্পকে উপভোগ করবে, মূল্যায়ন করবে। আর এই সমাজকে গড়ে তুলতে প্রয়োজন শিল্পের সঙ্গে সমাজের যোগসূত্র। শিল্পের সঙ্গে জীবনের ঘনিষ্ঠতা না থাকলে কোনো দিন কোনো শিল্পকে শিল্প বলা যাবে না। ’ তিনি বলেন, শিল্পী মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তাঁর সৃষ্টিকর্মের পাশাপাশি জীবনও ব্যর্থ হতে পারে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের থেকে শক্তির কোনো ঘাটতি নেই। আমি  ভেতরের শক্তির কথা বলছি, শারীরিক শক্তির কথা বলছি  না। শারীরিক শক্তি প্রদর্শন করার খুব প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। ভেতরের শক্তিটাকে আমরা যতটা বিকশিত করতে পারি ততই সমাজের মঙ্গল হয়। ’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘এই শক্তিটাকে সত্যিকার বিকশিত করতে পারে আমাদের সংস্কৃতিচর্চা। ’


মন্তব্য