kalerkantho


সবজির ‘তাপে’ শীত বিদায়ের লক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সবজির ‘তাপে’ শীত বিদায়ের লক্ষণ

সবজির বাজারে শীত বিদায়ের হাওয়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটির দর কেজিতে পাঁচ থেকে ১৫-২০ টাকা বেড়ে গেছে।

তুলনামূলক একই ধারায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। পাইকারি বাজারে ২৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ বাজারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

প্রতি কেজি বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আগের সপ্তাহে তা ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়ে গেছে। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। এ ছাড়া শিম ৩৫ থেকে ৪০, গাজর ২৫ থেকে ৩০, আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি আগে যেটি ছিল ২০ টাকা সেটি হয়ে গেছে ২৫ টাকা।

কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা হালি।

সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা শিমুল কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘শীতকালীন সবজির উৎপাদন কমে আসছে। ঢাকার পাইকারি বাজারে সরবরাহেও তার প্রভাব পড়ছে। ফলে দাম বেড়ে চলেছে।

পেঁয়াজের বাজারে দুই চিত্র। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আগের অবস্থান ২৫ টাকা কেজিতেই আছে। ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা কমেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভোক্তা চাহিদা বেশি থাকায় দেশি পেঁয়াজের দর বেড়ে গেছে।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে তা বিক্রি করছে। পাইকারি বাজারে সেভাবে প্রভাব না পড়লেও বাড়তি মুনাফার লোভে তারা এই কাজ করছে।

তবে খুচরা বিক্রেতারা উল্টো পাইকারি বাজারের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তাদের বক্তব্য, আগের দরে বিক্রি করলে তাদের লাভ বলতে গেলে থাকছেই না। পূর্ব রাজাবাজারের খুচরা বিক্রেতা সোহাগ মিয়া জানান, পাইকারি বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী। সেখানেই গত সপ্তাহের চেয়ে দাম একটু বেড়েছে। আর তার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

এ ছাড়া দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ এবং আমদানি করা রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। পাশাপাশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

সয়াবিন তেলে দাম বেড়েছে এক সপ্তাহ আগেই। এখন প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। এক লিটারের তীর ও রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে। আর পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৫১০ থেকে ৫২০ টাকায়।

তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাছ ও গোশতের দাম। প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৪৪০ থেকে ৪৫০ টাকায়। খাসির গোশত প্রতি কেজি ৭০০-৭৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বড় আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ এবং ছোট আকারের রুই ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৬০০-৬৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। কই মাছের কেজি ২২০-২৫০ ও টেংরা ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা।


মন্তব্য