kalerkantho


রাজধানীতে ৬১ জন আটক

ভুয়া পরিচয়ে সিম বিক্রি করে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা এলাকা থেকে ৬১ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে মোবাইল সিম বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৪-এর কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম খলিল।

এ বিষয়ে মিরপুরে র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ওই ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, পল্লবীর বিসিক ভবনের ইয়ানতাই চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ভবনের সপ্তম তলায় এমআর কমিউনিকেশনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের ৬১ জনকে আটক করা হয়। ওই সময় দেখা যায়, ‘বাংলালিংক’ অপারেটরের মিরপুর অঞ্চলের (মিরপুর, শাহআলী, পল্লবী, দারুসসালাম ও রূপনগর থানা) ডিস্ট্রিবিউটর ‘এমআর কমিউনিকেশন’-এর কার্যালয়ে তাদের কর্মচারীরা বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি প্রিন্ট করা, ভুয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড বানানো এবং এসব ডকুমেন্ট ফাঁকা ফরমের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ব্যস্ত। সেখানে উপস্থিত বাংলালিংকের বিক্রয় প্রতিনিধি, ওই ডিস্ট্রিবিউশনের মালিক, ম্যানেজার ও ডিস্ট্রিবিউটরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও অন্যদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। সন্দেহের সত্যতা পাওয়ায় র‌্যাব তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ সিমসহ এ সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ব্রিফিংয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তারা উপস্থিতিত ছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, এদের অনেকেই সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভের মাধ্যমে রিটেইলারের কাছে সিম বিক্রি করে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিক্রয় প্রতিনিধির জন্য মাসিক একটি লক্ষ্যমাত্রা থাকে।

রিটেইলার সিমটি যখন কোনো ক্রেতার কাছে বিক্রি করে তখন অনেক ক্ষেত্রে শুধু ফিংগারপ্রিন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ নিয়েই সিমটি সচল করে দেয়। অর্থাৎ যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখের বিপরীতে সিমটি বিক্রি করা হলো তা সঠিক কিন্তু নাম ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য অসম্পূর্ণ। রিটেইলার এসব অপূরণকৃত ফরমগুলো আবার প্রতিনিধির মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে জমা দেয়। পরবর্তী সময়ে ডিস্ট্রিবিউটর পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ ঠিক রেখে ভুয়া নাম-ঠিকানা ও ছবি ব্যবহার করে নিজেরাই জাতীয় পরিচয়পত্র বানায় এবং সে অনুযায়ী অপূরণকৃত ফরমটি সম্পূর্ণ পূরণ করে অপারেটরের কাছে জমা দেয়।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন অপারেটরের সিম রি-রেজিস্ট্রেশন করার পুরো সিস্টেমে কোনো ভুল না থাকার পরও শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ ঠিক রেখে ব্যবহারকারীর নাম-ঠিকানা ও ছবির স্থলে অন্য ব্যক্তির তথ্যাদি দিয়ে অপারেটর তথা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে বিভিন্ন সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। এ প্রতারকচক্রের মূল সদস্যরা হলো সিম ডিস্ট্রিবিউশন, সেলস্ এবং সিম রিটেইলিংয়ের সঙ্গে জড়িতরা। এ ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রের নম্বরের সঙ্গে নাম-ঠিকানা ও ছবি সঠিক কি না তা যাচাইয়ের কোনো পদ্ধতি না থাকায় অপারেটর এ ভুলটি শনাক্ত করতে পারে না এবং এ ভুল ফরমটিই তাদের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণ করে। কোনো অপরাধ বা ঘটনা তদন্ত করতে গেলে পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ভুল এবং ভুয়া তথ্যের রেকর্ডই পেয়ে থাকে। যার কারণে মূল অপরাধী বা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রি-রেজিস্ট্রেশনের পর ধারণা করা হয়েছিল বিভিন্ন নাম্বার থেকে চাঁদা দাবি, হুমকি ইত্যাদি অপরাধ কমে আসবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কিন্তু বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ এ ধরনের চাঁদা দাবি ও হুমকির বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আবারও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ আসতে শুরু করে। এরপর অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়।


মন্তব্য