kalerkantho


বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপরও

মেহেদী হাসান   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপরও

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সরব হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপরও। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার শরণার্থীর স্বীকৃতি পেয়েছে। এর বাইরে আরো প্রায় পৌনে চার লাখকে নিয়ে বাংলাদেশের সমস্যা আরো বাড়ছে। ওই অনিবন্ধিতদের বাংলাদেশ ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে অভিহিত করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের বলছে ‘শরণার্থী’। একই সঙ্গে তাদেরও শরণার্থীর সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। রাখাইন প্রদেশে সশস্ত্র বাহিনীর দমন-পীড়নের খবর গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খুব শিগগির সেখানে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করছেন এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারসহ অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সফরের পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি ঢাকায় আসছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সরকার রোহিঙ্গাদের সীমান্ত জেলা কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গার চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন দেশ সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদোন এ সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁরা ওই পরিকল্পনা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান।

সরকার ঠেঙ্গার চরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রোহিঙ্গাদের সেখানে নিয়ে যেতে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে বলেছে, সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হওয়ার পরই এ স্থানান্তরপ্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে পশ্চিমারা এখনই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা না করলেও বিভিন্ন মহলের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে। অনেকে বলছে, ঠেঙ্গার চরের মতো স্থানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের ফলে তাদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়বে। এতে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। তাই অন্যত্র স্থানান্তর না করে বর্তমান স্থানেই রোহিঙ্গাদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির চাপ বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, বাঁচার তাগিদে মিয়ানমার থেকে আসা লোকদের ঢাকা বছরের পর বছর আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে আসছে। তিনি বলেন, শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়, শরণার্থীদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক : অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক হয়েছে। জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ থেমে নেই। প্রতিদিনই তারা আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে এবং নানা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। সরকার চাইলেই তাদের ফেরত পাঠাতে পারছে না।

তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরের আশপাশের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ব্যাপারে তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই। অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা এ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য দ্রুত কক্সবাজার ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার বা মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাই দ্রুত তাদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ খুব শিগগির কাজটি করার পরিকল্পনা করছে।

ঠেঙ্গার চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান এইচআরডাব্লিউয়ের : বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের ঠেঙ্গার চরে পাঠানোর পরিকল্পনা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ঠেঙ্গার চরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো তাদের মুক্তভাবে চলাফেরা, জীবনমান, খাদ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।


মন্তব্য