kalerkantho


দারুল ইহসান বন্ধের রায় দিলেন আপিল বিভাগও

‘৪০ বছরের পর আইনজীবী হওয়া যাবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়টির আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন।

আদালতে দারুল ইহসান কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফয়জুল কবির, অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, এখন থেকে দারুল ইহসান আর কার্যক্রম চালাতে পারবে না। অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি বার্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম বিষয়ে আদালত অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেবেন এ রায়ে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ে যেসব নির্দেশনা থাকতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো—নিম্ন আদালতের বিচারক অবসর নেওয়ার পর সেখানে আর কাজ করতে পারবেন না। তেমনি হাইকোর্টের বিচারপতি অবসরের পর হাইকোর্টে আইনজীবী পেশায় থাকতে পারবেন না। এমনকি বয়স ৪০ বছরের বেশি হয়ে গেলে কেউ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী সনদ পাবেন না।

এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছর মেয়াদি এলএলবি সনদধারীরা বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে তিন অথবা চার বছর মেয়াদি কোর্সধারীরা পারবেন।

বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় দুই বছরের সনদ নিয়ে জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে করা এক রিট আবদনে দেওয়া রায়ে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই এলএলবি কোর্স সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়টির সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে দারুল ইহসানের পক্ষে আপিল করা হয়। শুনানি শেষে গতকাল এ আপিল খারিজ করা হয়। এ ছাড়া এ মামলায় অন্য যেসব বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষভুক্ত হয়ে আবেদন করে সেগুলোরও নিষ্পত্তি করেছেন আপিল বিভাগ।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের সাময়িক অনুমোদন পায় ১৯৯৩ সালে। তখন এটি দারুল ইহসান ট্রাস্টের মাধ্যমে চলত। পরে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে উদ্যোক্তারা চার ভাগ হয়ে যায়। এরপর সারা দেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলে সার্টিফিকেট বাণিজ্য শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ অবস্থায় এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর বিরুদ্ধে এক পক্ষ মামলা করার পর মঞ্জুরি কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়।


মন্তব্য