kalerkantho


হঠাৎ ৩০% বেতন বৃদ্ধি

বিয়াম স্কুলের সামনে বিক্ষোভ

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে যোগ হয় ‘ভৌতিক চার্জ’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিয়াম স্কুলের সামনে বিক্ষোভ

রাজধানীর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে অতিরিক্ত টিউশন ও অন্যান্য ফি কমানোর দাবিতে অভিভাবকরা গতকাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

হঠাৎ করেই প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে ৩০ শতাংশ বেতন বাড়িয়েছে রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারিতে কিছু না বললেও গত ১ ফেব্রুয়ারি নতুন করে বেতন বৃদ্ধির খবর অভিভাবকদের জানানো হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একদিকে বেতন বাড়ানো হয়েছে, আবার এর সঙ্গে প্রতি মাসেই অযৌক্তিক কিছু চার্জ যুক্ত করা হয়। যার পরিমাণও প্রায় বেতনের সমান। অভিভাবকরা চলতি সপ্তাহ থেকে বেতন দিতে এসে নতুন বিভিন্ন ধরনের চার্জের খবর জানতে পারেন। এর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁরা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেন। আজ বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে।

অতিরিক্ত টিউশন ও অন্যান্য ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অভিভাবকরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বেতন, স্পোর্টস ফি, ল্যাবরেটরি ফিসহ বিভিন্ন অজুহাতে বাড়তি অর্থ নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। নার্সারির এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও ল্যাবরেটরি ফি নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের বিক্ষোভের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক শাখার প্রধান শিক্ষক শাহানা হক তাঁদের কাছে আসেন।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে বেতন বৃদ্ধিতে আমাদের কিছুই করার নেই। সরকারের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়েই ৩০ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। আর এই টাকার পুরোটাই স্কুলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। স্কুলের আয়ের এক টাকাও অন্য খাতে ব্যয় করা হয় না। এর পরও যদি আপনাদের (অভিভাবক) কিছু বলার থাকে তা বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকে জানান। তিনিই সমাধান দিতে পারবেন। ’

তবে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কথায় শান্ত হননি। আজও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশ না করে একজন অভিভাবক বলেন, গত বছর তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর বেতন ছিল দেড় হাজার টাকা। এবার করা হয়েছে এক হাজার ৯৫০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি মাসেই পানি, বিদ্যুৎ, মিলাদ, ভর্তি ফিসহ নানা খাত দেখিয়ে আরো এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত যুক্ত করা হয়েছে। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে দিতে হয়েছে তিন হাজার ৩২৫ টাকা।


মন্তব্য