kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

২৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২০২১ সালের মধ্যে

‘আর্থিক-সামাজিক সূচকে অনেক এগিয়ে দেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, অধিকাংশ আর্থিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

তিনি এ দেশকে এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে দেখেছেন। আর সিটি গ্রুপের বিবেচনায় ২০১০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়ে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক ও বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য বাংলাদেশ।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করায় কোনো আলোচনা হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে উৎপাদনক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এ দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে সারা বিশ্বে উপস্থাপন করছে।

 

সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে। তিনি জানান, গত সাত বছরে জিডিপি ও জাতীয় আয় বেড়েছে। কমেছে দারিদ্র্য। রিজার্ভ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রেমিট্যান্সপ্রবাহ আশার চেয়েও বেশি বেড়েছে।

সংসদ নেতা জানান, মোট দেশজ আয় (জিডিপি), রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে এবং মূল্যস্ফীতি হ্রাসে সরকারের সাফল্য অভূতপূর্ব। বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৬ সালের নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৬তম এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতার জিডিপির ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে।

প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড : প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সাত বছরে রাজস্ব আয় বাড়ানো, উন্নয়ন খাতে অর্থায়ন, অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ গ্রহণে ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাসহ উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার আগের রেকর্ড ভেঙেছে। এ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশ্ব মন্দা ও বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজারে (মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা) রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের ফলে গত সাত বছরে এক কোটি ৩৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরে রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

রপ্তানি আয় : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ফলে উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি আয় বেড়েছে।  

২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ : ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে উৎপাদনক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। এ বছরেই জাতীয় গ্রিডে এক হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। ২০০৯ সালে ছিল ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনে এটা ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট কমে গিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার মাত্র পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণ বাড়িয়ে ২০১৩ সালে ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে। দ্বিতীয় মেয়াদে মাত্র তিন বছরে সেই ক্ষমতা ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে।


মন্তব্য