kalerkantho


বরিশাল সদর হাসপাতাল

ডায়রিয়া বিভাগের চার শয্যায় হঠাৎ ৫১ রোগী

আজিম হোসেন, বরিশাল   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বরিশালের একটি মাদরাসায় মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ৫১ ছাত্র। তাদের তাড়াহুড়া করে ডায়রিয়া চিকিৎসায় বিভাগের একমাত্র স্বীকৃত চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চার শয্যার এ বিভাগে হঠাৎ এত রোগী আসায় হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগের সেবিকা (ইনচার্জ) আসমা বেগম বলেন, সদর উপজেলার রাড়ীমহল উলালঘুনি হাফিজিয়া ফোরকানিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার ৫১ ছাত্রকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার শয্যার এ বিভাগে বড়জোর ১০-১২ জন রোগী রাখা গেলেও ৫০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব।

রাড়ীমহল উলালঘুনি হাফিজিয়া ফোরকানিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ৬০ শিক্ষার্থী মঙ্গলবার দুপুরে লাউ ভাজি আর ভাত খেয়েছে। সঙ্গে ছিল টমেটোর চাটনি। রাত সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ করেই কয়েকজন ছাত্রের পাতলা পায়খানা শুরু হয়। অনেকে বমি করতে থাকে। সাড়ে ৮টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়া ৫১ জনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগে সাত-আটটি শয্যা পাওয়া গেছে। ওইগুলোতে দুজন করে রাখা হয়েছে। বাকিদের রাখা হয়েছে মেঝেতে। তিনি বলেন, যেহেতু ডায়রিয়ার একমাত্র চিকিৎসা এখানেই হয় সেহেতু আরো শয্যা ও চিকিৎসক বাড়ানো প্রয়োজন।

বরিশাল সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে এত রোগী আসায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁদের। তিনি বলেন, জরুরিভাবে বাড়তি ওষুধ, বাড়তি শয্যার ব্যবস্থা করা কষ্টকর। এ বিভাগে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক ও সেবিকাও বাড়াতে হবে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নুরু হোসেন ফরাজী বলেন, ডায়রিয়া বিভাগ চার শয্যার হলেও তাঁরা প্রতিদিন এখানে ১০ জনের বেশি রোগীর খাবার ও ওষুধ সরবারহ করেন। মাঝেমধ্যে ওই বিভাগে ৫০ জনের বেশি রোগীর খাবার সরবরাহ করতে হয়। এ অবস্থা হলে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়।

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ও বরিশাল সদর হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ এফ এম সফিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বরিশাল সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এতে ডায়রিয়া বিভাগে শয্যা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ডায়রিয়া বিভাগের জন্য আমাদের বাড়তি সেবিকা রয়েছেন। তাঁরা যেকোনো বড় ধরনের সংকটে সেবা দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত রোগী এলে বাড়তি ওষুধ ও শয্যার ব্যবস্থা করার জন্য তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’

স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বরিশালে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য একমাত্র স্বীকৃত চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল সদর হাসপাতাল। আমরা এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলে রেখেছি, ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দিতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে। এর পরও আমরা এ হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগের শয্যা বাড়াতে এবং সেবার মান উন্নত করার ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করব। ’


মন্তব্য