kalerkantho


আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রায়পুরে বিশিষ্টজনের কবর ভেঙে মেঝে ঢালাই!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বড় মসজিদ এলাকার সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে বিশিষ্ট তিন ব্যক্তির কবর ভেঙে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়াত ব্যক্তিদের স্বজনরা জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপারসহ (এসপি) প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে ঘটনার তদন্তে যান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। প্রায় ৭০ বছরের পুরনো ওই কবরস্থান হঠাৎ ভেঙে ফেলায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভেঙে ফেলা কবরস্থানে দাফন করা ব্যক্তিদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও বড় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহ শ্রমিকদের নিয়ে কবরস্থানটি ভেঙে ফেলেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তিনি কবর ভেঙে সমান করে গত মঙ্গলবার সেখানে ইট-বালু দিয়ে ঢালাই করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহ বলেন, ‘ক্ষমতার জোরে মসজিদ এলাকায় তাঁদের কবর দেওয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত কবরস্থানটি সংস্কার করার জন্য পরিবারের লোকজনকে কয়েকবার বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। প্রাচীন এ মসজিদের শোভাবর্ধনের জন্য এটি ভেঙে সেখানে ফ্লোর ঢালাই করা হয়েছে। আবার ঢালাই তুলে ওই স্থানে সুন্দরভাবে কবরস্থান করে ফুলের বাগান করে দেওয়া হবে। ’

দেনায়েতপুর এলাকার প্রবীণ চার ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৭০ বছর আগে রায়পুরের ঋণ সালিসি বোর্ডে ৩৪ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা ও চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত নুরুল ইসলাম আজুবের বাবা হাজি আজিজুর রহমান মারা যান।

তৎকালীন মুরব্বি ও মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্মতিক্রমে সীমানাপ্রাচীর এলাকায় তাঁকে কবর দেওয়া হয়। ওই স্থানে পাশাপাশি সমাজসেবক আবদুল আজিজ মুহুরি ও আরেক ব্যক্তিকে কবর দিয়ে পাকা দেয়াল ঘেরা করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি কবরের ওপর মৃতদের নামফলক ছিল।

প্রয়াত আজিজুর রহমানের নাতি রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, ক্ষমতার দাপটের কাছে এখন কবরস্থানও রক্ষা পাচ্ছে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকাশ্যে প্রয়াতদের শেষ চিহ্নটুকুও শেষ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাঈন উদ্দিন পাঠান বলেন, ‘বিশিষ্ট তিন ব্যক্তির কবর ভেঙে ফেলার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। সভ্য সমাজে এটি কল্পনাও করা যায় না। কারো আক্রোশের শিকার কবরস্থান হবে কেন?’

রায়পুর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কবরস্থানটি চিহ্নিত করে নতুনভাবে সৌন্দর্যের মাধ্যমে নিরাপত্তা বেষ্টনী করা হবে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য