kalerkantho


নূর হোসেন-তারেকসহ ১৭ জনের আপিল শুনানির জন্য গৃহীত

জরিমানার সাজা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নূর হোসেন-তারেকসহ

১৭ জনের আপিল

শুনানির জন্য গৃহীত

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ১৭ আসামির করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার সাজা স্থগিত করেছেন আদালত। আসামিদের করা আপিল, কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা জেল আপিল ও নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্সের শুনানি একসঙ্গে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, এস আর এম লুত্ফুর রহমান আকন্দ ও হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাঁর সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহূত হন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে বাকি একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল দুটি মামলায় পৃথক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়। দুটি মামলায়ই ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিও অভিন্ন। এ অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি করে নারায়ণগঞ্জ আদালত গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার রায় ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে গত ২২ জানুয়ারি রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আবার কেউ কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপিল করেন। এসব আপিলের মধ্যে ১৭ জনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদের বিষয় উপস্থাপন হলে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।

 


মন্তব্য