kalerkantho


১৩ বছরে ২৮তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ

আবুল কাশেম   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



১৩ বছরে ২৮তম বৃহৎ

অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ

ক্রয়ক্ষমতা সাম্যের ভিত্তিতে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আগামী এক যুগের মধ্যেই নেদারল্যান্ডস, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ২৮তম বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ। পরের দুই দশকে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও স্পেনকে পেছনে ফেলে আরো পাঁচ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা প্রাইসওয়াটার কুপারসের (পিডাব্লিউসি) এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় এমন তথ্য।

‘দ্য ওয়ার্ল্ডস ইন ২০৫০’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের অর্থনীতি দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে। উদীয়মান দেশগুলোই বিশ্ব অর্থনীতির চালকের আসনে থাকবে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হবে এশিয়া। পিপিপির ভিত্তিতে মেক্সিকোর বাজার ২০৫০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বড় ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম।   জিডিপি-পিপিপির ভিত্তিতে বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত ২০৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

বাংলাদেশকে ‘শক্ত অর্থনীতির দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩৫ বছরে সবচেয়ে বড় নড়চড় হবে নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের অর্থনীতি।

এই সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো সংকট দূর করতে পারলে নাইজেরিয়া এখনকার ২২তম অবস্থান থেকে ১৪তম, ভিয়েতনাম ৩২তম অবস্থান থেকে ২০তম এবং পাকিস্তান ২৪ থেকে ১৬ নম্বরে জায়গা পাবে। শক্তিশালী উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ৩১ নম্বর থেকে ২৩ নম্বরে জায়গা করে নেবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশসহ এ তিনটি দেশের গড় জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ। এই দেশগুলো তাদের যুব ও তরুণ সমাজ এবং বিপুল পরিমাণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা ভোগ করবে। ফলে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন বাড়বে। তবে শ্রমশক্তির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দেশগুলোর মূলধনী বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ‘২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতির শক্তিগুলোর মধ্যে বড় রদবদল হবে। ওই সময় মেক্সিকো ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। পাকিস্তান ও মিসর ইতালি ও কানাডাকে টপকে যাবে। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় ভিয়েতনাম, ভারত ও বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সবচেয়ে বর্ধনশীল অর্থনীতি। ’

২০৫০ সাল পর্যন্ত গড়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৬ শতাংশ হবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু প্রকৃত আয় বাড়বে ৪.১ শতাংশ হারে। আর দেশীয় মুদ্রায় গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪.৮ শতাংশ। এ তিনটি সূচকে কেবল ভারত ও ভিয়েতনাম বাংলাদেশের চেয়ে ভালো করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা। পিডাব্লিউসি বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৩ শতাংশ। ২০২৫ সাল নাগাদ তা ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে। জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ বিবেচনায় ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভারতের পরের অবস্থান পাবে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে জিডিপি-পিপিপির ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশের শীর্ষে আছে চীন, দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র। পরের অবস্থানে থাকা দেশগুলো হলো ভারত, জাপান, জার্মানি, রাশিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩১ নম্বরে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ ২৮ নম্বরে উঠে আসবে। এই সময়ে শীর্ষস্থানে থাকবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রই। তবে পরের অবস্থানগুলোতে জায়গা হবে ভারত, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও যুক্তরাজ্যের। আর ২০৫০ সালে চীনের পরে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ভারত। পরের স্থানগুলো হবে যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, রাশিয়া, মেক্সিকো, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের। ওই সময় বাংলাদেশ থাকবে ২৩তম অবস্থানে।

 


মন্তব্য