kalerkantho


পুলিশের কমান্ডো ইউনিট আসছে ১১ ফেব্রুয়ারি

থাকছেন নারী সদস্যও

সরোয়ার আলম   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশের কমান্ডো ইউনিট আসছে

১১ ফেব্রুয়ারি

জরুরি ক্ষেত্রে ঝটিকা অভিযানের প্রয়োজনে এবার পুলিশে যোগ হচ্ছে কমান্ডো ইউনিট। থাকছেন নারী সদস্যও। প্রথমে মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জ এবং পরে জেলা পুলিশেও পৃথক কমান্ডো ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে।

আগামী শনিবার খাগড়াছড়ির এপিবিএন স্পেশালাইজড ট্রেনিং সেন্টারে কমান্ডো ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এ কমান্ডো ইউনিটের সদস্য হবে হাজারখানেক। তবে আপাতত ৪০ জনকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তাঁদের জন্য আলাদা পোশাক থাকবে। তবে পোশাকের ধরন এখনো চিহ্নিত হয়নি। এ ইউনিটের প্রাথমিক সদস্যদের ভারতে নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কমান্ডো ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। তাদের দেওয়া হবে আধুনিক অস্ত্র। দেশি-বিদেশি কমান্ডোদের পরামর্শ নেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে রংপুর রেঞ্জ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০ জনের দুটি দলকে কমান্ডো কোর্স করানো হবে। দুই মাসের এ প্রশিক্ষণ শেষে এ দুটি দল অনেকটা সোয়াতের আদলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রংপুর রেঞ্জে কাজ করবে। তাদের মূল কাজ হবে শৃঙ্খলাজনিত সংকট মোকাবিলায় তাত্ক্ষণিক ঝটিকা অভিযান চালানো। পর্যায়ক্রমে এ রকম আরো অনেক দলকে কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমান্ডো ইউনিটের সদস্যরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা, জঙ্গিদের প্রতিরোধে কাজ করবেন। সেই সঙ্গে বিমান ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটলেও তা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি থাকবে এই ইউনিটের। তা ছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এবং স্থাপনাগুলোয় বাড়তি নিরাপত্তা দেবে তারা।

কমান্ডো বাহিনীতে একজন নারী কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নারী সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে কমান্ডো ইউনিট।

এ প্রসঙ্গে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এতে জনগণ সুফল পাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে পুলিশের কমান্ডো ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হলে অপরাধীরা আতঙ্কে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীও পুলিশের কাজে আরো গতিশীলতা আনতে আমাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ’    

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বছরখানেক আগে সোয়াতের আদলে কমান্ডো ইউনিট গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত মাসে পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও কমান্ডো ইউনিট নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ইউনিট চালু করার নির্দেশ দেন। এই ইউনিটের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। আপাতত প্রতিটি মহানগর এলাকায় কমান্ডো ইউনিটের সদস্যদের রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 


মন্তব্য