kalerkantho


রাবিতে ছাত্রলীগকর্মী ফারুক খুন

সাত বছরেও বিচার হয়নি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন হত্যার ঘটনায় করা মামলার বিচারকাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। গতকাল বুধবার ফারুক স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ দ্রুত বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে।

একই দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।  

ফারুকের মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে শোক পদযাত্রা ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা দলীয় টেন্ট থেকে পদযাত্রা করে সংগঠনের নিহত এই কর্মীর স্মৃতিবিজড়িত শাহ্ মখদুম হলের সামনে যান এবং সেখানে ফারুকের অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মামলাটি এখনো বিচারাধীন। মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে সাতক্ষীরা সময়মতো আদালতে না আসায় বিচারকাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে। ’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হল দখলকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রলীগকর্মী ফারুককে হত্যা করে মৃতদেহ সৈয়দ আমীর আলী হলসংলগ্ন ম্যানহোলে ফেলে রাখে।

ছাত্রলীগের আরো তিন কর্মীর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। অন্য একজনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, যিনি এরপর থেকে অন্ধ। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো অনেক শিবির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নগরের মতিহার থানায় মামলা করেন। প্রায় আড়াই বছর পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযুক্ত করা হয় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি শামসুল আলম গোলাপসহ ১১০ জনকে। আসামিদের মধ্যে জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন সাঈদী। তবে অভিযুক্ত শিবির নেতাকর্মীদের বেশির ভাগই জামিনে রয়েছে।


মন্তব্য