kalerkantho


মা-বাবার পা ধুয়ে দিয়ে শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত শিক্ষার্থীদের

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মা-বাবার পা ধুয়ে দিয়ে শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত শিক্ষার্থীদের

পাবনার ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা মায়ের পা ধুয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্কুল মাঠে সারি করে বসে আছেন কারো মা, কারো বা বাবা। আর কোমলমতি সন্তানরা শ্রদ্ধাভরে তাদের মা-বাবার পা ধুয়ে দিচ্ছে। এমন দৃষ্টান্ত দেখে মা-বাবাও সন্তানের মাথায় মমতার হাত রেখে আবেগাপ্লুত। অনেকের চোখ দিয়ে ঝরেছে আনন্দের অশ্রু। গতকাল বুধবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত দাদাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হাজির হয়েছিলেন এমন ৫০ জন অভিভাবক। সন্তানরা আয়োজন করে মা-বাবার সেবা করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে ‘মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভক্তি-শ্রদ্ধা’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে ৪০ জন মা ও ১০ জন বাবা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন স্কুলটির ৩০০ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিল মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার, লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান শরীফ ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, ‘বাবা-মায়ের প্রতি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার এই কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এর মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি পাব বলে আশা করি। ’

কর্মসূচি চলাকালে স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা খাতুনের মা সালেহা খাতুন ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তন্বী খাতুনের মা পারুল আক্তার বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আজ আমাদের পা ধুয়ে মুছে দিয়েছে। এটা দেখে খুব ভালো লেগেছে। তারা যেন ভবিষ্যতেও আমাদের প্রতি এমনভাবে খেয়াল ও ভালোবাসা ধরে রাখে, সে কামনা করি। ’

স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিত্বিক ইসলামের বাবা জিয়াউল ইসলাম ও নবম শ্রেণির ছাত্র রুবেল হোসেনের বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সন্তান যে তার বাবার পা ধুয়ে দেবে, ওষুধ খাইয়ে দেবে তা ভাবতে পারিনি। এমন আয়োজন খুবই ভালো। সন্তানরা আজ যে শিক্ষা পেল তা আগামীতে তাদের জীবন গঠনে কাজে লাগবে। ’

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা খালেদা আক্তার বলেন, ‘আমরা বর্তমানে একটা অস্থির সময় পার করছি, যেখানে মা-বাবার প্রতি সন্তানের অবহেলার খবর প্রায়ই শোনা যায়। সন্তানরা শৈশব থেকেই এত বেশি যান্ত্রিক হয়ে উঠছে যে মা-বাবার প্রতি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। তাই এখন থেকেই যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এভাবে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বৃদ্ধ বয়সে পাশে থেকে কর্তব্য পালনের শিক্ষা দেওয়ার বীজ বপন করতে পারি, তাহলে আগামীতে এর ফল নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। পারিবারিক পরিবেশ আরো উন্নত হবে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ বলেন, “সমাজের জন্য ভালো কিছু করার বাসনা থেকেই আমি চিন্তা করতে থাকি, কিভাবে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কর্তব্যবোধ জাগ্রত করা যায়। সেই চিন্তা থেকে ‘মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভক্তি-শ্রদ্ধা’ শীর্ষক এই কর্মসূচি গ্রহণ করি। ”

এর আগে ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই কর্মসূচি চলার সময় ৫০০ শিক্ষার্থী ও তাদের মায়েরা অংশ নেন। ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীরা তাদের মায়ের কপালে চুমু দিয়ে তাঁদের মুখে মিষ্টি ও শিঙাড়া তুলে দেয়। এ সময় অধিকাংশ মা সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।

 


মন্তব্য