kalerkantho


মিয়ানমারকে এবার সতর্ক করল ভারত

মেহেদী হাসান   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারকে এবার সতর্ক করল ভারত

রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে উগ্রবাদী হতে লস্কর-ই-তৈয়বাসহ পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা উসকানি দিচ্ছে বলে মিয়ানমারকে সতর্ক করেছে ভারত।

রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারকে তাগিদ দিয়ে ভারত আরো বলেছে, এ সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ছাড়াও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থান তুনের নয়াদিল্লি সফর করেন। সে সময় ভারত এসব সতর্ক বার্তা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি, এটি একটি বড় ধরনের ঝুঁকি। উগ্রবাদী রোহিঙ্গারা লস্করের (লস্কর-ই-তৈয়বা) সহযোগিতা পাচ্ছে। এর প্রভাব এ অঞ্চলে পড়বে। আর আমরা তাঁকে শিগগির একটি রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার পরামর্শ দিয়েছি। ’

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। মিয়ানমার ওই হামলার জন্য উগ্রবাদী রোহিঙ্গাদের দায়ী করছে এবং একে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অভিযানের নামে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দমন-পীড়নের প্রবল সমালোচনা করে বলেছে, গুটিকয়েক ব্যক্তির জন্য পুরো জনগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়া যায় না।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি বৈশ্বিক আহ্বানে এবার ভারতও যোগ দিয়েছে। নয়াদিল্লি বিশ্বাস করে, নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমারে অধিকারবঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে উগ্রবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো কাজে লাগাতে পারে—সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এমন আশঙ্কা বেশ আগে থেকেই করা হচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তর গত ডিসেম্বরে লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) তহবিল সংগ্রহ ও সহায়তা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে মুহাম্মদ সারওয়ার ও শহিদ মেহমুদ নামে এর দুজন জ্যেষ্ঠ নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শহিদ মেহমুদ মিয়ানমার, তুরস্ক, সিরিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশেও তৎপরতা চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর উল্লেখ করে। ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) নামে একটি সংগঠনের পক্ষে শহিদ রোহিঙ্গা শিবিরে অর্থ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ সফরে এলেও তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য সংগ্রহ করা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির বিশেষ দূত চাও তিনের আলোচনায়ও রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সশস্ত্র চরমপন্থা বিকাশের আশঙ্কার বিষয়টি স্থান পায়। রাখাইন মুসলমান জনগোষ্ঠীর মূল সমস্যার সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বাংলাদেশ জোর দেয়।

গত অক্টোবর মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে দমন-পীড়ন শুরুর পর প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে বিভিন্ন সময়ে আসা প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ তাদের ফিরিয়ে নিতে বারবার আহ্বান জানালেও মিয়ানমার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।


মন্তব্য